বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

মিসাইলের পাশাপাশি সাইবার হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

ফাইল ফটো

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এখন আর শুধু আকাশপথের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি বিস্তৃত হয়েছে ডিজিটাল দুনিয়ার গভীরেও। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের সমান্তরালে শুরু হয়েছে তীব্র সাইবার লড়াই, যা দুই পক্ষের অবকাঠামো, আর্থিক খাত ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানে ব্যাপক সাইবার বিঘ্ন দেখা যায়। দেশটির জনপ্রিয় একটি ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অ্যাপ হ্যাক হয়ে লাখো ব্যবহারকারীর ফোনে আতঙ্ক ছড়ানো বার্তা পৌঁছে যায়। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার ওয়েবসাইটেও অনুপ্রবেশ করে সরকারবিরোধী প্রচার চালানো হয়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি ছিল মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান-সংযুক্ত হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলার দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করেছে, ইরানি গোষ্ঠীগুলো মার্কিন আর্থিক ও জ্বালানি খাতেও আঘাত হানতে পারে। বিশেষ করে ‘ওয়াইপার’ ধরনের ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে স্থায়ীভাবে তথ্য মুছে ফেলার ঝুঁকি রয়েছে।

মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের আগে সমন্বিত সাইবার ও মহাকাশ-সহায়ক অপারেশনের মাধ্যমে ইরানের যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছিল। তেহরানের নজরদারি ক্যামেরা ও মোবাইল নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের অভিযোগও সামনে এসেছে। প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট চিত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলের সাইবার ইউনিট ৮২০০ দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত সাইবার সক্ষমতার জন্য পরিচিত। অতীতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সাইবার আঘাতের নজির রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও উন্নত ডিজিটাল কৌশল ব্যবহারের ইঙ্গিত মিলছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও চ্যালেঞ্জের মুখে। সরকারি অচলাবস্থার প্রভাবে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সীমিত জনবল নিয়ে কাজ করছে, যা অবকাঠামো সুরক্ষায় ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশ্বব্যাপী পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সামরিক উত্তেজনার এই নতুন অধ্যায়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—আধুনিক যুদ্ধে কীবোর্ডও এখন এক শক্তিশালী অস্ত্র।

Link copied!