প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষ করার পর কাজ করার সুযোগ দিতে যে পোস্টস্টাডি ওয়ার্ক ভিসা দেওয়া হয়, সেই ভিসার আবেদন ফি হঠাৎ করেই দ্বিগুণ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ মার্চ থেকে টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা (সাবক্লাস ৪৮৫) আবেদন ফি বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হয়েছে। আগে এই ভিসার জন্য ফি ছিল ২ হাজার ৩০০ ডলার। অর্থাৎ এক লাফে দ্বিগুণ করা হয়েছে আবেদন খরচ। এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষ করার পর সাধারণত ১৮ মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সেখানে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। অনেক ক্ষেত্রে এই ভিসা ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করে।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার পোস্টস্টাডি ওয়ার্ক ভিসা বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ভিসায় পরিণত হয়েছে। একই ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় এখন অস্ট্রেলিয়ার খরচ অনেক বেশি।
শুধু মূল আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই নয়, ভিসার সঙ্গে থাকা নির্ভরশীলদের জন্যও খরচ বেড়েছে। ভিসা আবেদনকারীর সঙ্গী বা ১৮ বছর কিংবা তার বেশি বয়সী নির্ভরশীলদের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ ডলার। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ফি দিতে হবে, যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কিছু আর্থিক শর্ত কঠোর করা হয়েছে। বর্তমানে স্টুডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ৫০০) আবেদন ফি ২ হাজার ডলার, যা জনপ্রিয় শিক্ষা গন্তব্যগুলোর মধ্যে অন্যতম বেশি। পাশাপাশি জীবনযাপনের ব্যয় সামাল দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করতে বছরে অন্তত ২৯ হাজার ৭১০ ডলার দেখানোর বাধ্যবাধকতাও চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার খরচও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ও কাজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচের দেশ বেছে নিতে পারেন।
