প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার, বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটিতে অভিবাসননীতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক এবং অভিবাসনবিরোধী জনমত বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা ভিসা প্রক্রিয়ায় কঠোরতার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার গন্তব্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়া বেছে নিতে দ্বিধায় পড়ছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে প্রপার্টি কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ড. অ্যাডেল লাউসবার্গ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ভয়াবহ দাবানলের সময় বৈশ্বিক গণমাধ্যমের ভুল উপস্থাপনা যেমন পর্যটন খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছিল, তেমনি এখন অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক বার্তাও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মনে ভয় তৈরি করছে। বিদেশে বসে সম্ভাব্য শিক্ষার্থীরা যখন প্রতিদিন অস্ট্রেলিয়ার সংবাদে অভিবাসন নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা দেখেন, তখন তারা এই দেশকে পড়াশোনার জন্য কম আগ্রহ নিয়ে বিবেচনা করেন।
ফেডারেল আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল জানান, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশ থেকে ভিসার জন্য ‘অসাধু’ আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ভিসা প্রক্রিয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মে মাসে নেপাল থেকে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন চীনের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়, যা ছিল অস্বাভাবিক। বর্তমানে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে ধীরগতির নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যার ফলে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে সিডনিতে বসবাসরত অভিবাসন আইনজীবী মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন বলেন, দক্ষিণ এশীয় শিক্ষার্থীদের কাছে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাসযোগ্য ছিল। কিন্তু ভিসা নীতির ঘন ঘন পরিবর্তন এবং জটিলতা মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত কিছু শিক্ষার্থীও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, অনেক টাকা খরচ করে পড়তে গেলেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঘিরে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ায় তারা মানসিক চাপের মধ্যে পড়ছেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে চাইলে অস্ট্রেলিয়াকে দেশীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় এই বহুমূল্য শিক্ষা খাত দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
