বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

অলসতা দূর করবে সূর্যালোক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

ফাইল ফটো

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঝিমঝিম ভাব, ক্লান্তি আর বারবার ঘুমিয়ে পড়ার প্রবণতা—এগুলো এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। তবে জাপানের Osaka Metropolitan University-এর এক গবেষণা বলছে, ঘুম ভাঙার পর মাত্র ২০ মিনিট প্রাকৃতিক আলো শরীরে লাগলে এই সমস্যার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে রোজার সময়ে সেহেরির পর এই অভ্যাস আরও কার্যকর হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘গ্রাজুয়েট স্কুল অফ হিউম্যান লাইফ অ্যান্ড ইকোলজি’র গবেষকরা দেখেছেন, ঘুম থেকে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রাকৃতিক আলো পেলে সকালের ক্লান্তি কমে যায় এবং মনোযোগ ও কর্মশক্তি বাড়ে। অন্যদিকে অন্ধকার ঘরে থাকলে বা আলো না পেলে শরীর পুরোপুরি জাগতে সময় নেয়, ফলে অলসতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীরে একটি স্বাভাবিক সময়চক্র কাজ করে, যাকে সার্কাডিয়ান রিদম বলা হয়। এই জৈব ঘড়ি ঠিক করে কখন আমরা ঘুমাবো, কখন জাগবো এবং কখন শরীর সবচেয়ে সক্রিয় থাকবে। আলো এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী নিয়ামক। চোখের মাধ্যমে আলো মস্তিষ্কে পৌঁছে শরীরকে সংকেত দেয় যে দিন শুরু হয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে ঘুমের গভীরতা কমে, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক হয় এবং শরীর কাজের জন্য প্রস্তুত হয়।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী Wiley-এ। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০ মিনিট আলোই যথেষ্ট; এর বেশি সময় আলো পেলেই যে বাড়তি উপকার হবে, এমন নয়। কারণ ভোরের আলোর তীব্রতা ঋতু ও সময়ভেদে ভিন্ন হয়। ঘুম ভাঙার প্রায় ২০ মিনিট পর আলো পাওয়া শরীরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়।

রোজার সময়ে সেহেরিতে উঠে আবার ঘুমানো বা ভোরে হঠাৎ ঘুম ভাঙার কারণে অনেকেই মাথা ভারী অনুভব করেন। এ ক্ষেত্রে জানালার পর্দা এমনভাবে রাখা যেতে পারে যাতে ভোরের আলো ধীরে ধীরে ঘরে প্রবেশ করে। চাইলে নির্দিষ্ট সময়ে আলো ঢোকার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এই ছোট্ট অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু সকালের ঝিমুনি নয়, সারাদিনের কাজের উদ্যম ও মানসিক সতেজতাও বাড়বে।

Link copied!