প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
রোজার মাসে ঈদের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেকেই কেনাকাটার চাপে শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তীব্র গরম, মার্কেটের অতিরিক্ত ভিড় এবং দীর্ঘ সময় রোজা রেখে বাইরে থাকা—সব মিলিয়ে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য পরিকল্পনা ও সচেতনতা থাকলে এই ক্লান্তি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়নের মতে, রোজার সময় শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় ভিন্ন ছন্দে কাজ করে। তাই কেনাকাটার উত্তেজনার মাঝেও শরীরের সীমাবদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ কমে এবং শক্তি সাশ্রয় হয়।
প্রথমেই প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা। কী কী কিনতে হবে তা নির্ধারণ করে নিলে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে অকারণে ঘোরাঘুরি করতে হয় না। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচে। বিশেষ করে পরিবার বড় হলে সবার চাহিদা আগে জেনে নেওয়া ভালো।
পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা দরকার। গরমের এই সময়ে হালকা, সুতি ও আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত। পাশাপাশি নরম ও আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার ক্লান্তি কম হয়। সঙ্গে ভেজা টিস্যু বা ছোট হাতপাখা রাখলে গরমে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
সময়ের নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। দুপুরের প্রচণ্ড রোদ এড়িয়ে বিকেল বা ইফতারের পর কেনাকাটায় বের হওয়া ভালো। যদি দিনের বেলায় যেতেই হয়, তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেট বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পানও ক্লান্তি রোধে বড় ভূমিকা রাখে। ইফতার ও সেহরিতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও মিষ্টি খাবার শরীরকে আরও অবসন্ন করে তোলে। ইফতারের পর কেনাকাটায় গেলে নিয়মিত পানি, লেবুর শরবত বা ডাবের পানি পান করলে শরীর চাঙা থাকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে সতর্ক হওয়া। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, চোখে ঝাপসা দেখা বা তীব্র ক্লান্তি অনুভব করলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। এসব পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে তরল পান করা জরুরি।
সচেতন পরিকল্পনা ও যত্ন নিলে ঈদের কেনাকাটা আনন্দময়ই থাকবে, ক্লান্তিকর নয়।
