বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬

বুধবার ১১, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

গলাব্যথায় ভুগছেন? জানুন সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৪:১২ পিএম

ফাইল ফটো

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে অনেকেই গলা ব্যথা, খুসখুসে কাশি, গলা চুলকানো কিংবা জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভুগছেন। আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য ঠাণ্ডা লাগা বা ভাইরাস সংক্রমণ থেকেই শুরু হতে পারে অস্বস্তিকর গলাব্যথা।

চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গলাব্যথা ভাইরাসজনিত কারণে হয় এবং সাধারণত তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে তা নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে শুরুতেই কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে ব্যথা ও জ্বালা অনেকটাই কমানো সম্ভব। যদি গলাব্যথার সঙ্গে উচ্চ জ্বর, গিলতে কষ্ট, গলায় ফোলা বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে মধু গলার জন্য বিশেষ উপকারী। এতে রয়েছে প্রদাহরোধী ও জীবাণুনাশক গুণ, যা গলার ভেতরের সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে। এক চামচ খাঁটি মধু সরাসরি খাওয়া যেতে পারে, অথবা হালকা গরম পানি কিংবা চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে পান করা যায়। তবে এক বছরের কম বয়সি শিশুদের মধু দেওয়া উচিত নয়।

গরম চা গলার পেশিকে শিথিল করে এবং জ্বালা কমায়। বিশেষ করে আদা বা ক্যামোমাইল চা প্রদাহ কমাতে কার্যকর। চায়ের সঙ্গে মধু মেশালে উপকার আরও বাড়ে। তবে চা যেন অতিরিক্ত গরম না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

পুদিনা পাতায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদান গলায় শীতল অনুভূতি দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক। পুদিনা পাতা দিয়ে চা বানিয়ে পান করা বা অল্প করে চিবিয়ে খাওয়াও উপকারী। তবে অতিরিক্ত পুদিনা গ্রহণে কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি হতে পারে।

আদা ও রসুনও গলাব্যথায় কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। আদা চিবিয়ে খাওয়া বা আদা চা পান করলে আরাম মেলে। রসুনে অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

এ ছাড়া গরম লবণ পানি দিয়ে দিনে কয়েকবার গার্গল করলে গলার অস্বস্তি কমে। পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কারণ গলা শুকিয়ে গেলে ব্যথা বাড়তে পারে। ধূমপান ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশ এড়িয়ে চলাও প্রয়োজন।

সচেতনতা ও প্রাথমিক যত্নই পারে ঋতু পরিবর্তনের এই সাধারণ সমস্যাকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে।

Link copied!