সোমবার ০৯, মার্চ ২০২৬

সোমবার ০৯, মার্চ ২০২৬ -- : -- --

ওজন নিয়ন্ত্রণেই লিভার সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

ফাইল ফটো

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ওবিসিটি বা স্থূলতার হার বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে ফ্যাটি লিভার বা এমএএসএলডি (মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টেটোটিক লিভার ডিজিজ) একটি নীরব মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ শুধুই লিভারের সমস্যা নয়, এটি পুরো দেহের বিপাকীয় সমস্যা হিসেবে কাজ করে।

এমএএসএলডি হল এমন একটি অবস্থার নাম, যেখানে লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। এটি প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণত কোনো লক্ষণ দেয় না। ফলে অনেকেই অজান্তেই এই সমস্যার শিকার হন। ওবিসিটি, টাইপ–২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকায় এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

ওবিসিটি কীভাবে এমএএসএলডি সৃষ্টি করে, তা বোঝার জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। পেটের চর্বি সরাসরি লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, বিশেষ করে তেল ও চিনি সমৃদ্ধ খাবার, লিভারের চর্বি বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ লিভারের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রোগকে গুরুতর পর্যায়ে নিয়ে যায়।

এমএএসএলডি উপেক্ষা করলে তা মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। লিভারে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি হতে পারে, যা এমএএসএইচ (মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টেটোহেপাটাইটিস) হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘমেয়াদি অবস্থায় লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া টাইপ–২ ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

প্রতিরোধ সম্ভব। শরীরের ওজন ৭–১০% কমানো, প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, রক্তের সুগার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত লিভার পরীক্ষা এ রোগকে প্রতিরোধে কার্যকর। আধুনিক ওষুধ যেমন সিমাগ্লুটাইড বা টারজিপিটাইডও ওজন কমানোর পাশাপাশি লিভারের চর্বি হ্রাসে সহায়ক।

ডা. আহমাদ মনিরুল হক জানান, সচেতনতা এবং প্রাথমিক পদক্ষেপই ফ্যাটি লিভার থেকে গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধের চাবিকাঠি। তাই স্থূলতা, অনিয়মিত খাদ্য ও জীবনধারা নিয়ে অবহেলা লিভারের জন্য মারাত্মক হতে পারে।

Link copied!