প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
রমজানে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময়টা আনন্দের হলেও অনেকের জন্য তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খাবার মুখে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই মাথা ভারী হয়ে যাওয়া, কপালে চাপ অনুভব করা কিংবা চোখের ওপর দিয়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ার মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকে। চিকিৎসকদের ভাষায় একে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মাথাব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কপাল বা মাথার দুপাশে অনুভূত হয়। মাইগ্রেইনের মতো তীব্র দপদপে ব্যথা না হলেও এটি অস্বস্তিকর এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সুসংবাদ হলো— সাধারণত খাবার গ্রহণের পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এই ব্যথা কমে আসে।
ইফতারের পর মাথাব্যথার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় পানিশূন্যতাকে। দীর্ঘ সময় পানি না পান করায় শরীরে তরলের ঘাটতি তৈরি হয়, যা রক্তনালীর সংকোচন ঘটিয়ে মাথাব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। অনেকে ইফতারের সময় একসঙ্গে অনেক পানি পান করেন, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে এতে তেমন উপকার হয় না; বরং ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করাই বেশি কার্যকর।
আরেকটি বড় কারণ ক্যাফিন গ্রহণে হঠাৎ বিরতি। যারা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, রোজার সময় ক্যাফিন না পেলে ‘উইথড্রয়াল হেডেক’ হতে পারে। সাধারণত শেষবার ক্যাফিন গ্রহণের ১৮ ঘণ্টা পর এই ব্যথা শুরু হয়। তাই রোজার আগে ধীরে ধীরে ক্যাফিনের মাত্রা কমিয়ে আনার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়াও মাথাব্যথার একটি কারণ। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে গ্লুকোজের স্বল্পতা মস্তিষ্কের ব্যথা-সংবেদনশীল অংশকে উদ্দীপিত করে। যাদের আগে থেকেই মাইগ্রেইনের প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রোজা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে ব্যথা যদি খুব তীব্র হয়, সঙ্গে বমি, জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। কারণ সেগুলো সাধারণ উপবাসজনিত মাথাব্যথার লক্ষণ নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পানি পান— এই কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললেই রমজানে ইফতারের পর মাথাব্যথার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
