প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
Apple তাদের ডিভাইসগুলোর বার্তা সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। আইওএস ও আইপ্যাডওএসের সর্বশেষ ডেভেলপার বেটা সংস্করণে রিচ কমিউনিকেশন সার্ভিসেস (আরসিএস) বার্তায় পরীক্ষামূলকভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে আইওএস ও আইপ্যাডওএস ২৬.৪ বেটা সংস্করণে সীমিত আকারে এই সুবিধা চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে আইওএস, আইপ্যাডওএস, ম্যাকওএস এবং ওয়াচওএসের নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।
অ্যাপলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এনক্রিপশন সুবিধাটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সব ডিভাইস বা সব মোবাইল অপারেটরে এটি একযোগে কাজ নাও করতে পারে। যেসব কথোপকথনে ‘Encrypted’ ট্যাগ দেখা যাবে, সেগুলো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে এবং বার্তা প্রেরণ ও গ্রহণের মাঝপথে কোনো তৃতীয় পক্ষ তা পড়তে পারবে না। তবে আপাতত এই নিরাপত্তা কেবল অ্যাপল ডিভাইসের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া আরসিএস বার্তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অ্যান্ড্রয়েড বা অন্য প্ল্যাটফর্মে পাঠানো বার্তায় এই সুবিধা কার্যকর হবে না।
গত বছর GSMA আনুষ্ঠানিকভাবে আরসিএস প্রটোকলে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সমর্থনের ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণার পর প্রায় এক বছর পর অ্যাপল পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন শুরু করল। এই সুরক্ষা কার্যকর করতে আরসিএস ইউনিভার্সাল প্রোফাইল ৩.০ সংস্করণে আপডেট প্রয়োজন, যা মেসেজিং লেয়ার সিকিউরিটি (এমএলএস) প্রটোকলের ভিত্তিতে তৈরি।
এ ছাড়া নতুন বেটা সংস্করণে নিরাপত্তা জোরদারে মেমোরি ইন্টেগ্রিটি এনফোর্সমেন্ট (এমআইই) প্রযুক্তির পূর্ণ সুরক্ষা সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। আগে এটি সফট মোডে সীমাবদ্ধ ছিল। এই প্রযুক্তি উন্নতমানের স্পাইওয়্যার আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর এবং কার্নেলসহ গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম অংশ ও ৭০টির বেশি ব্যবহারকারী প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম বলে দাবি অ্যাপলের। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এতে ডিভাইসের কর্মক্ষমতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট MacRumors জানিয়েছে, আইওএস ২৬.৪ সংস্করণে ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রটেকশন’ সুবিধা ডিফল্টভাবে চালু হতে পারে। এর ফলে বাড়ি বা কর্মস্থলের বাইরে সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের সময় ফেস আইডি বা টাচ আইডি যাচাই বাধ্যতামূলক হবে। পাশাপাশি অ্যাপল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তনে এক ঘণ্টার বিলম্ব যুক্ত হতে পারে, যাতে ডিভাইস চুরি হলে ব্যবহারকারীরা দ্রুত সেটি সুরক্ষিত করার সুযোগ পান।
সব মিলিয়ে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় অ্যাপল আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
