সোমবার ১৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সোমবার ১৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

যুক্তরাষ্ট্রের গোপন এআই অপারেশন ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

ফাইল ফটো

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো–কে অপহরণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এক গোপন অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের অভিযোগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য দৈনিক The Wall Street Journal–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করেছে এআই কোম্পানি Anthropic–এর তৈরি জনপ্রিয় মডেল ‘Claude’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে কাজ করা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান Palantir Technologies–এর পার্টনারশিপের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, অভিযানের সময় রাজধানী কারাকাসজুড়ে বোমাবর্ষণে অন্তত ৮৩ জন নিহত হন। ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে—বিশেষত সামরিক অভিযানে এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে।

অ্যানথ্রপিকের নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, তাদের এআই মডেল সহিংসতা, অস্ত্র উন্নয়ন বা নজরদারি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তবুও কীভাবে এবং কোন পর্যায়ে এই প্রযুক্তি সামরিক অভিযানে যুক্ত হলো, তা এখনো অস্পষ্ট। ব্রিটিশ দৈনিক The Guardian উল্লেখ করেছে, এটি এমন প্রথম ঘটনা যেখানে কোনো এআই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের গোপন অভিযানে ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এলো।

প্রতিরক্ষা খাতে এআই ব্যবহারের প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরাক ও সিরিয়ায় বিমান হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়। পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনীও গাজায় স্বয়ংক্রিয় ড্রোন পরিচালনায় এআই ব্যবহার করেছে।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই অতীতে প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছিলেন। তবে জানুয়ারিতে মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট করে জানান, প্রতিরক্ষা বিভাগ “যুদ্ধ পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করে” এমন কোনো এআই মডেল ব্যবহার করবে না।

এই ঘটনার পর সামরিক খাতে এআই প্রযুক্তির সীমা, নীতিমালা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি ও যুদ্ধনীতির সংযোগ এখন বিশ্বরাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে উঠছে।

Link copied!