প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
আট মাসব্যাপী গবেষণা মিশনে চার নভোচারীকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (International Space Station) পৌঁছে দিয়েছে SpaceX)। মিশনটির নাম ‘ক্রু-১২’, যা মার্কিন মহাকাশ সংস্থা NASA–র বাণিজ্যিক ক্রু কর্মসূচির অংশ।
ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে স্থানীয় সময় ভোরে উৎক্ষেপণ করা হয় দুই ধাপবিশিষ্ট Falcon 9 রকেট। এর শীর্ষে ছিল ‘ফ্রিডম’ নামের Crew Dragon ক্যাপসুল, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে ডকিং সম্পন্ন করে। উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই রকেটের পুনর্ব্যবহারযোগ্য বুস্টার নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে এসে অবতরণ করে—যা স্পেসএক্সের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আরেকটি নজির।
এই দলে রয়েছেন নাসার দুই নভোচারী, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা European Space Agency–র এক ফরাসি সদস্য এবং রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা Roscosmos–এর একজন কসমোনট। মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ মার্কিন নভোচারী জেসিকা মেয়ার, যিনি এর আগে মহাকাশে ঐতিহাসিক সর্ব-মহিলা স্পেসওয়াকে অংশ নিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রথমবারের মতো মহাকাশযাত্রায় অংশ নেওয়া জ্যাক হ্যাথওয়ে, ফরাসি পাইলট সোফি আদিনো এবং রুশ নভোচারী আন্দ্রে ফেদিয়ায়েভ।
প্রায় ৩৪ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থানরত গবেষণাগারে পৌঁছান তারা। সেখানে আট মাস অবস্থান করে ওজনহীন পরিবেশে চিকিৎসাবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন। নিউমোনিয়ার জীবাণু নিয়ে গবেষণা থেকে শুরু করে মহাকাশে খাদ্য উৎপাদনের নতুন পদ্ধতি—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন তারা।
এই বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ। বিশেষ করে নাসার Artemis program–এর লক্ষ্য পূরণে এসব গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০২০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে নভোচারী পাঠিয়ে আসা স্পেসএক্সের এটি দ্বাদশ দীর্ঘমেয়াদি ক্রু মিশন, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আরেকটি সফল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
