প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এসএসসি ২০২৬ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এ পরীক্ষার ফলের ওপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রবেশ ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার পরিকল্পনা অনেকাংশে নির্ভর করে। ফলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী হতাশা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তাঁদের অভিভাবকেরাও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই কারও মেধা, সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং ঘাটতি পূরণ করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া একটি শিক্ষাবান্ধব ব্যবস্থার অংশ। তাঁরা কোনো নিয়মবহির্ভূত সুবিধা চান না; বরং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান প্রত্যাশা করছেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন।
প্রথমত, এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিশেষ পরীক্ষার সিলেবাস, মানবণ্টন, প্রশ্নপদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দ্রুত প্রকাশ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় পান।
তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় দিয়ে পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা এবং পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
চতুর্থত, বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একই শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
পঞ্চমত, কোনো অনিবার্য কারণে চলতি বছর বিশেষ পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হলে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি পরবর্তী বছর কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে তাঁদের এক বছর পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এতে শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগও তৈরি হবে।
তাঁরা জানান, তাঁদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়। বরং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য সুযোগ, শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের মূল প্রত্যাশা, একটি পরীক্ষার ফলাফলের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন অযথা বাধাগ্রস্ত না হয়।
তবে বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা আয়োজন, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এবং বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
