প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
রাজধানীর পূর্বাচলসংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ে এক অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় মাদক ও মদের আসর থেকে আটক ৮৫ নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১২ জন ছাত্রী ও ২২ জন ছাত্রের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। দৈনিক আমার দেশের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পাঁচজন, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) চারজন এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের তিনজন করে রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন দুজন। এ ছাড়া ইংরেজি মাধ্যমের ও লেভেল ও এ লেভেলের শিক্ষার্থীরাও তালিকায় রয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই আয়োজনে বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিকের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের পাশাপাশি গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ফিলিপ মরিস এবং ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের সংযোজনকারী ও পরিবেশক এসিআই মোটরসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও সেখানে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার একই বাড়িতে জড়ো হওয়ার বিষয়টিকে কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তাঁদের ভাষ্য, ওই আয়োজনের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যেভাবে অভিযান ও সাজা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ের ওই বাড়িটি মঙ্গলবার ওএসডি হওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের। বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। গত সোমবার রাতে সেখানে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। অভিযান বন্ধ করতে আব্দুল্লাহ আল জহির বিভিন্নভাবে তদবির করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ডিবি পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখে।
অভিযানে মোট ৮৫ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
পুরুষদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। নারীদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদেরও আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবারই সাজাপ্রাপ্তদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনকে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হয়েছে। অন্যরা কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। তালিকায় অনেকে নিজের নাম দিলেও পেশা ও স্থায়ী ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেননি। ফলে তাঁদের পরিচয় নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। কেউ কেউ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাজাপ্রাপ্তদের প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়ে এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের ছেলে-মেয়েরা রয়েছেন। এ ছাড়া একটি বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থার একজন প্রশিক্ষণার্থী ক্যাপ্টেনও রয়েছেন।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, পেশা, সেখানে জড়ো হওয়ার উদ্দেশ্য এবং কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম দৈনিক আমার দেশকে বলেন, তাঁদের কাছে কোনো আসামি হস্তান্তর করা হয়নি। ডিবি পুলিশের অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করা হয়। ডিবির তত্ত্বাবধানে সাজাপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি।
সাজাপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে ১২ জন শিক্ষার্থী
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ দিনের কারাদণ্ড পাওয়া ২৬ নারীর মধ্যে ১২ জন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন—
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ সম্পন্ন করা কেএম সাওফা সিলভি (২৬), প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ও এশিয়াটিকের কর্মকর্তা সামজানা মেহজাবীন (২৬), ধানমন্ডির একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের ছাত্রী মালিহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সারিকা (২৫), কাওলা সিভিল অ্যাভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী তাসকিন হোসাইন রাহা (১৯), ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা হৃদি (২৪), পেনস্টোন একাডেমির শিক্ষার্থী নায়মা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফরা (২৪), বিইউপির সাবেক ছাত্রী সামরাইন (২৩), আইইউবির ছাত্রী ও সামরাইনের বোন সোহা (২১), বিইউপির ছাত্রী জারিন তাসনিম (২৬) এবং চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ছাত্রী রুবাবা মোহাম্মদী (২৫)।
তালিকায় সাজাপ্রাপ্ত নারীদের অন্যদের মধ্যে রয়েছেন এশিয়াটিকের কর্মকর্তা ও মিরপুরের কনটেন্ট ক্রিয়েটর আফসানা বুলবুল (২৭), টঙ্গীর এবিএ গার্মেন্টসের কর্মকর্তা ফারিয়া জামান (২৬), পোশাক ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা ফারিয়া সুন্নাহ (২৭), সিটি ব্যাংকের অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার নিশাত সাল সাবিল মিম (২৭), গেট লিবরেজের অপারেশন স্পেশালিস্ট রিফা (২৬), মোহাম্মদপুরের ইফতিদা (২৩), পোশাক ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা মুনমুন রায় বর্ষা (২৫), এসিআই মোটরসের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহা মোটরের প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ নাছরিন সুলতানা (২৬), ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের কনসালট্যান্ট ও গ্রামীণফোনে ঊর্ধ্বতন পদে কর্মরত সায়মা (২৬) এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট প্রতিষ্ঠানের ফ্রিল্যান্সার ও এশিয়াটিকের কর্মী ওয়াফা (৩২)।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কল সেন্টারে কর্মরত মোহাম্মদপুরের আনিকা বেলাল করিম (৩০), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক মালিহা (২৬), মিরপুর ডিওএইচএসের সাবরিনা (১৯) এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটিতে আসা সামিয়া (২৫)।
সাজাপ্রাপ্ত ২২ ছাত্রের পরিচয়
অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি থেকে আটক ৫৯ পুরুষের মধ্যে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একজন কর্মকর্তাও সাজা পেয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ধানমন্ডির পাভেল শাহাবুদ্দিনের ছেলে ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) ছাত্র আল শাহরিয়ার রুদ্র (২২), বনানীর আব্দুল ছাত্তারের ছেলে ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র হানজালা নূর সাঈদ (২৭), পশ্চিম মালিবাগের শাহ মো. জুবায়ের হোসেনের ছেলে ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র শাহ মো. শাফায়েত হোসেন (২২), ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি চত্বরের আব্দুর রহমানের ছেলে ও গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ছাত্র নাঈমুর রহমান (২৬), উত্তর বাড্ডার ইমরুল আলমের ছেলে ও উত্তরা শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাইফুল ইসলাম রাফি (২৬) এবং ধানমন্ডি-৩২-এর কামরুল ইসলামের ছেলে ও আইইউবির ছাত্র হাসিব খান (২৬)।
তালিকায় আরও রয়েছেন উত্তর কাফরুলের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাবেক ছাত্র শায়ান কিবরিয়া (১৯), কলাবাগানের সেন্ট্রাল রোডের সোহেল আহমেদের ছেলে ও বিইউপির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফারহান আহমেদ (২৫), মোহাম্মদপুরের শেখ ফজলুল হকের ছেলে ও আইইউবির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শেখ ফাহিম হক (২৬), পল্লবীর এমএ গফুরের ছেলে ও বিইউপির এমবিএ শিক্ষার্থী মেহরাব রহমান (২৬), রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন এলাকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকিরের ছেলে ও বিইউপির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হিম (১৯), মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের হাসান মোহাম্মদ তানভির ইমতিয়াজের ছেলে ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাবেক ছাত্র রাশিক ইভতেসাম (২০), ভাটারার রাশেদুল হকের ছেলে ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাশেদুল হক রাফিয়াদ দারাজাদ হক (২৩), ধানমন্ডির ড. হাবিবুর রহমানের ছেলে ও কিংস কলেজ লন্ডনের ছাত্র মাহমুদ ফাহিম রহমান শান্ত (২৫) এবং শাহজাহানপুরের শহীদবাগ এলাকার মঈনুল হকের ছেলে ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সাফওয়ান হক (২৭)।
এ ছাড়া রয়েছেন বসুন্ধরার জামাল উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ও এআইইউবির ছাত্র রাফি আহমেদ চৌধুরী (২২), ইসিবি চত্বরের জামাল হোসেন সিকদারের ছেলে ও বিইউপির চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জুবায়ের সিকদার (২৫), মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের আব্দুস সালামের ছেলে ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ছাত্র এবং গবেষণা বিশ্লেষক ফয়সাল আহমেদ (২৪), ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা বাজারের ইসমাইল হোসেনের ছেলে ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র তানজিদ ইসলাম সিয়াম (১৯), পশ্চিম রামপুরার ইয়ামিন খানের ছেলে ও বিআইইউপির সিএসই বিভাগের ছাত্র ইউসুফ খান পলক (২৫), ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি এলাকার মাইনুদ্দিন মানিকের ছেলে ও আইইউবিএটির বিবিএ বিভাগের ছাত্র মনিরুল ইসলাম (২৬) এবং উত্তর বাসাবোর মহসিন সরকারের ছেলে ও এআইইউবির সিএসই বিভাগের ছাত্র ফাইজাল আলভি সরকার আদব (২৫)।
সাজাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা হলেন উত্তর কাফরুলের সুলতান আহমেদের ছেলে ফেরদৌস আহমেদ (৩০)। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগে কর্মরত।
সাজাপ্রাপ্ত অন্য পুরুষদের পরিচয়
প্রতিবেদনে সাজাপ্রাপ্ত অন্য পুরুষদের মধ্যে চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারের সুকেন্দু বিকাশ বড়ুয়ার ছেলে রানা বড়ুয়া (৩৮), মিরপুর ডিওএইচএসের শহিদুল হাসানের ছেলে নাদবি হাসান (২৬), উত্তর ইব্রাহিমপুরের আবু জাফর মোল্লার ছেলে সাদমান রাফিক (২৫), উত্তরা পশ্চিমের মৃন্ময় গুহের ছেলে পরম গুহ (২৬), ধানমন্ডির আবু মো. শফিউল আজমের ছেলে আবু মো. মুহসিউল আজম (৩২), গ্রিন রোডের উমর আল ফারুকের ছেলে মোরসালিন (২৪), গুলশান-২-এর এহসানুল হকের ছেলে রাইয়ান আব্দুল্লাহ সাকিবুল হক (২৭), মিরপুর ডিওএইচএসের শহিদ উল্ল্যার ছেলে রামিম আল রাফি নাসিম (২৫), শেওড়াপাড়ার ইছাক আলীর ছেলে ও ধানমন্ডির সেলিস এইচআরে ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত সাদমান সাকিব (২৮) এবং ভাটারা ব্লক-জির মির্জা বকুলের ছেলে মির্জা আরেফিনের (২৭) নাম রয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন পশ্চিম শেওড়াপাড়ার আহসান হাবীব সুমনের ছেলে ও গুলশান-১-এর ইটিআই বাংলাদেশ এনজিওর কর্মকর্তা সাদমান বিন আহসান (২৫), বনানীর নিয়ামত উদ্দিন আহমেদের ছেলে ও ফিলিপ মরিসের ম্যানেজার তাওহিদ (২৭), পল্লবীর নুরুল ইসলামের ছেলে ও মারভেল কোম্পানির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সাদাত (২৮), কাফরুলের জাহাঙ্গীর হারুনের ছেলে ও খাদ্য ও পানীয় ব্যবসায়ী জিফান তাহমিদ (২৯), বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে প্রকৌশলী শাহিন ভূঁইয়া (৩২), পুরান ঢাকার কোতোয়ালির ফারিয়াজ আরজুর ছেলে ও ইস্ট ওয়েস্ট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের বিক্রয় ও রিজার্ভেশন কর্মকর্তা ফারাহিম ফাইয়াজ (২৭), খিলক্ষেত লেকসিটির বাবর আলীর ছেলে ও গোল্ডেন সানরাইজের ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম (৩৮), কাঁঠালবাগানের জয়নাল আবেদিনের ছেলে ও অনলাইন পেজের মডারেটর আইমান আবেদিন রাফিন (২৫), কোতোয়ালির নবাবপুর রোডের এরফান হাসান (৩০), যিনি ঢাকা ট্রিবিউনের সাবেক সাংবাদিক, ক্যান্টনমেন্টের ইসিবি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে ও প্রাণ-আরএফএলের ব্র্যান্ড ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম তানজিম (২৭), কাফরুলের মো. মনিরুজ্জামানের ছেলে ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনভিজিবল টেকের ডেটা অ্যানালিস্ট মাফি মুস্তাফা (২৫) এবং আফতাবনগরের শফিক উল্লাহর ছেলে ও এশিয়াটিক মিডিয়া লিমিটেডের (এএমএল) জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক তানজির আহমেদ (৩১)।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন মিরপুর-১২ পল্লবীর মো. মাইনুদ্দিনের ছেলে ও এশিয়াটিক মাইন্ডশেয়ার বিডির কৌশলগত কর্মকর্তা সাজিদ মাহমুদ (২৬), ধানমন্ডির মাহফুজুর রহমানের ছেলে ও ফোর ট্রেডার্স লিমিটেডের সফটওয়্যার প্রকৌশলী ওমর বিন মাহফুজ (২৪), বসুন্ধরার সাজ্জাদুল আলম সেজান (২৭), বনশ্রী-রামপুরার মিজান মাওলার ছেলে ও প্রাইমটেক্স লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ভেন্ডর ম্যানেজার আফতাবুল মাওলা রাব্বি (২৪), শান্তিনগরের শাহ নিয়াজ আকনের ছেলে হাসান হাফিজুর (২৭), খিলক্ষেতের রেজাউল করিমের ছেলে সাজিউর রহমান (২৬), শান্তিনগরের শহিদুল আলম চৌধুরীর ছেলে হামেদ হাসান (২৪), শান্তিনগরের মহিউদ্দিন খানের ছেলে ফারহান খান সাদাফ (২৫), দক্ষিণখানের কাজী তাহমিদ ইসলাম (২৮), যিনি এশিয়াটিকের কমনিওর কোম্পানিতে এসডিআর পদে কর্মরত, লালমাটিয়ার শেখ মনিরুল আলম টিটুর ছেলে শেখ অধ্যায় আলম (২৩), মিরপুর-১০-এর মাসুদ রানার ছেলে আরিয়ান মানাভ (২৭), পশ্চিম শেওড়াপাড়ার জলিল উদ্দিনের ছেলে নাহিন আলী জাকি (২৬), মিরপুর ডিওএইচএসের জামাল হোসেনের ছেলে তাজওয়ার তাহমিদ জামাল (২৬) এবং ঢাকার কাঁটাবন রোডের শেখ ফরিদ হোসেন চৌধুরীর ছেলে আইমান শাবিত চৌধুরী (২৫)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তাঁদের পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের কেউ কেউ প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছেন বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন।
যা বলছে পুলিশ
অভিযান পরিচালনাকারী ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির জানান, বাড়িটিতে নিয়মিত ডিজে পার্টির নামে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আসর বসত। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইলিয়াস কবির আরও বলেন, পাঁচ কক্ষের বাড়িটির প্রতিটি কক্ষে সর্বোচ্চ ১০ জন পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হতো। অতিরিক্ত কেউ থাকলে জনপ্রতি ৬০০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়া হতো। দুপুর ১২টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলা এসব আয়োজনে মাসে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি অনুষ্ঠান হতো। প্রতিটি অনুষ্ঠান থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হতো বলে তাঁর ভাষ্য।
