প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজন প্রবেশপত্র। তবে সেই প্রবেশপত্র নিতে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের কয়েকটি বিভাগের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের একাধিক বিভাগে সরেজমিনে গিয়ে ইতিহাস, হিসাববিজ্ঞান, সমাজকর্ম ও ডিগ্রী পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতে দেখা যায়। কয়েকটি বিভাগের অফিস সহকারীকে প্রবেশপত্র দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা নিতে দেখা গেছে।
বেলা ১২টার দিকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে অফিস সহকারী পিংকি রানীকে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রবেশপত্র দেওয়ার জন্য ২০ টাকা করে দাবি ও গ্রহণ করতে দেখা যায়।
অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বৈধ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুধু ২০ টাকা নিচ্ছি, এতে সমস্যা কোথায়? ২০ টাকা দিতে কারও সমস্যা নেই।’
হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুর্জয় চন্দ্র দাস টাকা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত, এমন অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি তাদের নিষেধ করেছি। অভিযোগটি আমি সিরিয়াসলি নিচ্ছি। আমি হাতেনাতে ধরব দুর্জয়কে। আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
ইতিহাস বিভাগের হিসাব ও অফিস সহকারী মো. শাহ আলম শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এই টাকা নেওয়া বৈধ কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রিন্ট খরচের জন্য ২০ টাকা করে নিচ্ছি।’
যদিও ফরম পূরণের সময়ই শিক্ষার্থীরা সব ধরনের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল দিয়েও ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. কাদিমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অপরদিকে, সমাজকর্ম বিভাগেও প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অফিস সহকারীকে টাকা নিতে দেখা যায়। অফিস সহকারী মো. সোলাইমান বলেন, ‘প্রবেশপত্রের জন্য ৩০ টাকা নিচ্ছি। সমস্যা কোথায়? অনেকদিন ধরেই টাকা নেই, এটা তো আর নতুন না।’
এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, টাকা নেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত নন।
সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ হারেছী বলেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি জানতাম না। প্রবেশপত্রের জন্য টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
কলেজ প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রবেশপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এতদিন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
কলেজের ডিগ্রি শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রদান করেন প্রশাসনিক ভবনের অফিস সহকারী মো. জাকির হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গাজী গোলাম মোহাম্মদ সোহরাব হাসান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কর্মচারীদের নিয়ে একটি কাউন্সিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদ বলেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।’
এ বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ভূঁঞার সঙ্গে কল করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
