মোহনগঞ্জ-নেত্রকোনা থেকে মো: মোজাহিদ হোসেন
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম
বুধবার ৩০, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
সংগৃহীত
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার লুনেশ্বর ইউনিয়নের ১৯ নম্বর খিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় বর্তমানে টিনশেড ঘরে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তীব্র গরমে টিনের ঘরে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রয়েছে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক ও স্যানিটেশন সংকট।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ০১/০৭/ ১৯৭৩ সালে সরকারি করা হয়। বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ৪৫ শতাংশ। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১১৫ জন। তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের একটি পুরোনো ভবন বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে টিনশেড ঘরে পাঠদান করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থারও বেহাল দশা। এতে গরমের সময় টিনশেড কক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দিনের তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয় না।
বিদ্যালয়ে রয়েছে মাত্র একটি টয়লেট। সেটিও বিদ্যালয় ভবন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে। মহিলা শিক্ষক ও ছাত্রীদের জন্য নেই কোনো কমনরুম। বিদ্যালয়ের ছোট একটি কক্ষই অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষক ও ছাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় পৃথক জায়গার অভাব রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাকিয়া জাহান পান্না বলেন, ‘অফিস কক্ষ ও কমনরুম না থাকায় মেয়েদের অনেক সময় বাধ্য হয়ে একই টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। কখনো কখনো আশপাশের বাড়ির টয়লেটও ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’
প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান খান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯০ শতাংশের ওপরে। কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক না থাকায় সঠিকভাবে পাঠদান করাতে আমাদের খুবই বেগ পেতে হচ্ছে। পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় টিনশেড ঘরেই পাঠদান চলছে। গরমের সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেখানে ক্লাস করা খুব কষ্টকর।’
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান বলেন, উপজেলার তিনটি বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে খিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির জন্য বিশেষভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত নিরসন করে নতুন ভবন নির্মাণ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও ছাত্রী-শিক্ষকদের জন্য পৃথক স্যানিটেশন ও কমনরুমের ব্যবস্থা করা হোক।