প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন করে ডেমনস্ট্রেশন বা ডেমো ক্লাস যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক পদে আবেদনের যোগ্যতায় কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীদের পাঠদানের সক্ষমতা যাচাইয়ে এখন থেকে ডেমনস্ট্রেশন নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ এবং বিভাগের মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে থাকার বিদ্যমান শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করলে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকলেও শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম থেকে সপ্তমের মধ্যে না থাকলেও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম হলে আবেদনের সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ থাকতে হবে। এই শর্ত শুধু অনার্স বা মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
এ ছাড়া দেশের বাইরে থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে নিয়োগের সময় মেধাক্রমের শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
সিন্ডিকেটের এক সদস্য জানান, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে যোগ্য প্রার্থীদের কারও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—কোনো পরীক্ষাতেই সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ না থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা প্ল্যানিং কমিটি সুপারিশ করতে পারবে। পরে সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ থাকবে।
এসএসসি-এইচএসসির ফলেও শর্ত
নতুন নীতিমালায় প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রেও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসির সমষ্টিগত জিপিএ ন্যূনতম ৯ এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৮ দশমিক ৫ হতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনো একটি পরীক্ষায় জিপিএ ৪ থাকতে হবে।
এ ছাড়া শিক্ষক পদে আবেদনকারী থিসিস গ্রুপের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
যেভাবে বদলেছে নিয়োগ নীতিমালা
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রাবিতে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ওই নীতিমালায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ এবং বিভাগের মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথম থেকে সপ্তম স্থানের মধ্যে থাকা প্রার্থীদের শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানের দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৭’-এ বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। বিভিন্ন অনুষদের ক্ষেত্রে প্রথম থেকে সপ্তম স্থান পর্যন্ত থাকার শর্ত শিথিল করে আবেদনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়। একই সঙ্গে কিছু অনুষদে আবেদনের ন্যূনতম সিজিপিএ কমিয়ে ৩ করা হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এবার ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদ্যমান শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় ডেমনস্ট্রেশন, থিসিস গ্রুপ এবং বিদেশ থেকে পিএইচডি করা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনা হলো।
‘শিক্ষক নিয়োগে কোনো ধরনের আপস নয়’
নতুন নীতিমালা প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হলো শিক্ষক নিয়োগ। প্রশাসন ও উপাচার্যের নৈতিক অবস্থান শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তাই শুরু থেকেই আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং গত ১৭ বছরের শিক্ষক নিয়োগের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘নতুন নিয়োগ নীতিমালায় প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফল, প্রকাশনা, ডিগ্রি ও ডেমনস্ট্রেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডেমনস্ট্রেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, কারণ ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতাও একজন শিক্ষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন নীতিমালার সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করে দুর্বলতাগুলো কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাই, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রশাসন কোনো ধরনের আপস করবে না। কোনো প্ররোচনা বা সুপারিশ কাজে আসবে না, প্রার্থীর নিজের যোগ্যতা ও পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে তিনি শিক্ষক হওয়ার যোগ্য কি না। সম্প্রতি আইবিএর নিয়োগেও আমরা ডেমনস্ট্রেশন নিয়েছি এবং অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছি।’
