মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন এখন অন্ধকারের হাসপাতাল। বিদ্যুতের সুইচ অফ হলেই পুরো হাসপাতাল জুড়ে নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। জরুরি বিভাগ, শিশু ওয়ার্ড, আইসোলেশন ইউনিট—সবখানেই একই চিত্র।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাতে বিদ্যুৎ গেলে চিকিৎসা নয়, আতঙ্কই সঙ্গী হয়। রোগীর মুখ দেখতে জ্বালাতে হয় মোবাইলের টর্চ। তীব্র গরমে অসুস্থ শিশুকে বাতাস দিতে স্বজনরা হাতপাখা নিয়ে বসে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ৫০ শয্যার একটি প্রথম সারির উপজেলা হাসপাতালে এমন দৃশ্য মেনে নিতে পারছেন না কেউ।
বুধবার ( ২৩ সেপ্টেম্বর) অনুসন্ধানে জানা যায় , হাসপাতালের একমাত্র পুরনো জেনারেটরটি বছরের পর বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি এখন আর মেরামতযোগ্যও নয়। আর নতুন কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাকআপ সিস্টেমও নেই। ফলে সামান্য লোডশেডিং হলেই থমকে যায় পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম।
এক শিশু রোগীর বাবা বলেন, রাতে বাচ্চাটা জ্বরে কাঁপছে, এদিকে কারেন্ট নাই। ডাক্তার টর্চ দিয়ে দেখলেন। এইটা কি একটা সরকারি হাসপাতালের চিত্র হতে পারে।
এই অন্ধকারে কিছুটা আলোর ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠন 'টিম জার্নালিস্টস কুলাউড়া'। তারা নিজস্ব অর্থায়নে হাসপাতালের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপন করেছে চার্জার ব্যাকআপ লাইট। বিদ্যুৎ গেলেই অটোমেটিক জ্বলে ওঠে সেই আলো।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উৎফল দাশ বলেন, জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নতুন জেনারেটর বরাদ্দের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।