বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

জঙ্গি’ মামলায় ছাত্রীদের পুলিশে দেওয়া ভিক্টোরিয়ার শিক্ষিকার পদোন্নতি 

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নবাব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রীকে ‘জঙ্গি’ মামলায় পুলিশে সোপর্দের ঘটনায় আলোচিত সেই শিক্ষিকা অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা বদলি হয়েছেন। তাঁকে পদোন্নতি দিয়ে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
 
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা। এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁর বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানা যায়।
 
অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি নবাব ফয়জুন্নেছা হলের সহকারী প্রভোস্টের দায়িত্বেও ছিলেন।
 
২০১৬ সালের ২৭ জুলাই মধ্যরাতে হলের তিন ছাত্রীকে আটক করে তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের কক্ষে ডা. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্রসহ বিভিন্ন ইসলামিক বই পাওয়ার পর তাঁদের জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয় এবং পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
 
মামলার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া প্রায় এক দশক ধরে চলে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৪ মে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিন ছাত্রীকে খালাস দেন বলে মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।
 
ভুক্তভোগী তিন ছাত্রী হলেন—কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ছাত্রী ও ফয়জুন্নেছা হলের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট কানিজ ফারহানা বাতুল, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক ছাত্রী ও একই হলের বাসিন্দা আরজিনা আক্তার চম্পা এবং সালমা আক্তার।
 
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর খালাস পাওয়া তিন ছাত্রী অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার বিচার দাবি করেছেন।
 
তাঁরা বলেন, ‘নয় বছর ৯ মাস ২৭ দিন ধরে মামলাটি চলমান ছিল। এ সময়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। এখন যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, এই কমিটির নাম দেওয়া হোক আজীবন তদন্ত কমিটি। বর্তমান অধ্যক্ষও আমাদের তদন্ত কমিটির তদন্ত কর্মকর্তাদের নাম জানাননি। নয় বছরেও তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এখন নিলুফার সুলতানা কুমিল্লা থেকে চলে যাচ্ছেন। আমরা কি এই ঘটনার বিচার পাব?’
 
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইসলামিক বইকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের মামলা করা হয়েছিল। তবে পরে আদালতে জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
 
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার ভূঞা বলেন, ‘তাদের জীবনে যা ঘটে গেছে, আমরা কি সেটা ফিরিয়ে দিতে পারব? ভাগ্য ভালো, সরকার পরিবর্তনের কারণে, তারা মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমাদের তদন্ত কমিটি বলেছে, এগুলো ইসলামিক বই, জঙ্গিবাদের বই নয়।’
 
অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কলেজ প্রশাসন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কোনো চিঠি দিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ কোনো মন্তব্য করেননি।
 
এদিকে অধ্যাপক নিলুফার সুলতানার সঙ্গে ‘জঙ্গি’ মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
 
কলেজের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার শিক্ষক পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
 
তিন ছাত্রীকে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই করতে হয়েছে। আদালতে জঙ্গিবাদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলার পরিণতি নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সময়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার পদোন্নতি ও বদলির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
 
২০১৬ সালের ওই ঘটনার প্রায় এক দশক পর আদালতের খালাসের রায়ের মধ্য দিয়ে তিন ছাত্রীর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান হলেও তাঁদের অভিযোগের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও তদন্তের বিষয়টি এখনও আলোচনায় রয়েছে।
 
Link copied!