বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৪, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন ইবির ১৯ শিক্ষার্থী

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন অনুষদ থেকে  ১৯ জন শিক্ষার্থী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএসসি) সচিবালয়ের পরীক্ষানিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে এ ফল প্রকাশ করা হয়। কমিশনের ওয়েবসাইটেও ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২০০ জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে উত্তীর্ণরা হলেন- ২০১২-১৩ বর্ষের আরিফ হোসাইন, ২০১৪-১৫ বর্ষের আসিফ হোসেন ও শফিক শোভন, ২০১৫-১৬ বর্ষের সাদিয়া আফরিন খান, ২০১৬-১৭ বর্ষের হুমায়ন কবির ও সালমা খাতুন, ২০১৭-১৮ বর্ষের মেহবুবা মোহিনী, শাকির আলম ও রফিকুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, শারমিন খাতুন ও ইয়াসমীন খাতুন ২০১৮-১৯ বর্ষের খালিদ লিখন ও ২০১৯-২০ বর্ষের আমজাদ হোসেন প্রমূখ।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল' অ্যান্ড ল্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ থেকে ২০১৭-১৮ বর্ষের হাবিব ও তৌহিদুল, ২০১৮-১৯ বর্ষের নুসরাত জাহান তানী ও ২০১৯-২০ বর্ষের রোকনুজ্জামান রায়হান এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল' বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের প্রবেশ পদ (সিভিল জজ) নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা, ২০২৫-এ সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ ও মনোনীত ২০০ জন প্রার্থীর রোল নম্বর বিধি অনুযায়ী কোটা সংরক্ষণপূর্বক মেধাক্রম থেকে নিচে ক্রমানুসারে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোনো প্রার্থী অসত্য তথ্য প্রদান, তথ্য গোপন, যোগ্যতার কোনো ঘাটতি বা আবেদনপত্রে অসঙ্গতি দেখা গেলে ওই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের উপস্থিতির স্থান, তারিখ ও সময় যথাসময়ে দৈনিক পত্রিকা, কমিশনের নোটিশ বোর্ড এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে অথবা প্রাক-পরিচয় যাচাই (পুলিশ ভেরিফিকেশন) প্রতিবেদনে কোনো বিরূপ তথ্য পাওয়া গেলে তার মনোনয়নও বাতিল বলে গণ্য হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাফল্যের বিষয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকির আলম বলেন, প্রথমেই মহান আল্লাহ তা'আলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। 
টানা ২ বার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়ে নি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কুরআনের সেই আয়াত মনে পড়ে যায় যে, শিগগিরই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দিবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল যে একদিন বিচারক হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। পরিবার ও সমাজের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে অবদান আছে। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর রুম থেকে আমরা তিনজনই জজ হয়েছি।

আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. হালিমা খাতুন বলেন, আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো করে থাকে। এবার আরও ভালো করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে আশাকরি। যারা জুডিশিয়ারিকে প্রোফেশন হিসেবে নিতে চায় তাদের গাইডলাইন দেয়া থেকে শুরু করে তাদের বেজলাইন দৃঢ় করতে আমরা কাজ করবো। জুডিশিয়ারি একটা মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। অন্যদিকে তিন রুমমেট বন্ধু জজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তারা ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের আমাদের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Link copied!