শুক্রবার ১১, সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুক্রবার ১১, সেপ্টেম্বর ২০২৬ -- : -- --

নিজের ছবিকে ৮০-এর দশকের আবহে রূপান্তর করবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

স্মার্টফোনে তোলা সাধারণ ছবিকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই আশির দশকের পুরোনো ছবির আবহে রূপ দেওয়া যায়। পোশাক, চুলের স্টাইল, মেকআপ, আলো ও অ্যানালগ ফিল্মের দানাদার টেক্সচার, সবকিছুই এখন এআই টুলের মাধ্যমে ছবিতে যুক্ত করা সম্ভব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাই রেট্রো বা পুরোনো দিনের নান্দনিকতার ছবি তৈরির প্রবণতা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। আধুনিক ছবিকে কয়েক দশক আগের ফটো স্টুডিওর পুরোনো ছবির আবহে রূপ দিতে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন এআই ইমেজ প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নিচ্ছেন।

আশির দশকের ফ্যাশনে ছিল ভলিউমযুক্ত বা কিছুটা ফোলা চুল, উজ্জ্বল রঙের মেকআপ, বড় আকারের গয়না এবং কনট্রাস্টযুক্ত পোশাক। এআইয়ের মাধ্যমে এসব উপাদান ছবিতে যুক্ত করে পুরোনো দিনের ফ্যাশন ও পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা যায়।

শুধু রঙ পরিবর্তন করলেই ছবিতে রেট্রো আবহ তৈরি হয় না। ৩৫ মিলিমিটার ফিল্মের সূক্ষ্ম দানা, উষ্ণ রঙের টোন, হালকা অস্পষ্টতা এবং স্টুডিওর সফট ফ্ল্যাশ লাইটিং যোগ করলে ছবিটি আরও বাস্তবসম্মত দেখায়।

 

কীভাবে ছবি তৈরি করবেনঃ 

প্রথমে একটি আধুনিক এআই ইমেজ প্ল্যাটফর্মে পরিষ্কার ও উচ্চমানের ছবি আপলোড করতে হবে। ছবিতে মুখ স্পষ্ট থাকলে সাধারণত কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

এরপর প্রম্পট বা নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে মুখের মূল অবয়ব, বয়স, পরিচয় এবং স্বাভাবিক অভিব্যক্তি যেন অপরিবর্তিত থাকে। পাশাপাশি ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটে রূপান্তরের নির্দেশ দিতে হবে।

একটি নমুনা প্রম্পটঃ 

“Keep the person’s original facial features, identity, age and natural expression unchanged. Transform the image into a realistic 1980s studio portrait with voluminous hairstyle, period-appropriate clothing, bold makeup, warm colors, soft flash lighting, subtle 35mm film grain and authentic analog texture.”

 

দেশীয় আবহ যোগ করবেন যেভাবে:

ছবিতে বাংলাদেশের আশির দশকের পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতে প্রম্পটে নির্দিষ্ট কিছু উপাদান যুক্ত করা যায়। যেমনঃ 

  • তৎকালীন বাংলাদেশের পোশাক ও চুলের স্টাইল।
  • পুরোনো ঢাকার রাস্তা বা বসতবাড়ির পরিবেশ।
  • কাঠের ভিন্টেজ আসবাব।
  • দেয়ালে পুরোনো ক্যালেন্ডার বা নকশা।
  • ডায়াল ঘোরানো পুরোনো টেলিফোন।
  • আশির দশকের ফটো স্টুডিওর ব্যাকড্রপ।

তবে একসঙ্গে অনেক উপাদান যোগ না করে একটি নির্দিষ্ট স্টাইল বেছে নেওয়া ভালো। এতে ছবির মূল বিষয়টি স্পষ্ট থাকে এবং এআই তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাভাবিক ফলাফল দিতে পারে।

চুল, পোশাক, আলো ও ব্যাকগ্রাউন্ডের ধরন যত নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে, ফলাফল তত নিখুঁত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। উদাহরণ হিসেবে শুধু ‘পুরোনো ছবি’ না লিখে ‘আশির দশকের বাংলাদেশি স্টুডিও পোর্ট্রেট, উষ্ণ আলো, ৩৫ মিলিমিটার ফিল্ম গ্রেইন’, এভাবে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।

এআইয়ের তৈরি ছবিতে মুখের গঠন, হাত, গয়না বা পোশাকে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে প্রম্পট আরও সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট করে আবার চেষ্টা করা উচিত। একই সঙ্গে নিজের বা অন্যের ছবি ব্যবহারের আগে গোপনীয়তা ও অনুমতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

আলো, ছায়া, পোশাক ও ফিল্মের টেক্সচার একসঙ্গে অনুকরণ করার মাধ্যমে এআই এখন সাধারণ ছবিকেও অতীতের নান্দনিকতায় উপস্থাপন করতে পারছে। ফলে ব্যবহারকারীরা সহজেই নিজেদের ছবিতে আশির দশকের স্মৃতিময় আবহ ফিরিয়ে আনতে পারছেন।

Link copied!