প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে হামলার মামলায় অভিযুক্ত আসামি রাজনগর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ খান জামিন পেয়েও কারাগার থেকে বের হতে পারেননি।
রোববার( ১৩ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের গেটে জামিনের কাগজ আসার পরপরই ডিবি পুলিশ তাকে অন্য একটি মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার করে।
অভিযোগ উঠেছে, রিয়াজকে ছাড়াতে রাজনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান খান ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে জেলগেট পাস করানোর চেষ্টা করেন। এ কাজে মৌলভীবাজারের দুই প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপ ছিল বলে গোপনসূত্রে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জেল থেকে বের করার জন্য তারা মৌলভীবাজারের এক ছাত্রনেতাকে জেলগেটে পাঠান এবং ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে কাজ করেন। এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারের দুই ক্ষমতাশীল প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে। গোপনসূত্র বলছে, তাদের মধ্যে একজন নিজেই জেলগেটে গিয়েছিলেন।
তবে, পুলিশ প্রশাসন সময়মতো হস্তক্ষেপ করে। জামিনের কাগজ হাতে আসার সাথেই ডিবি পুলিশ রিয়াজের বিরুদ্ধে থাকা অন্য একটি মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাজনগর থানা নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, রিয়াজ খান রাজনগর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একসময় সে মৌলভীবাজার-০৩ আসনের এমপি জিল্লুর রহমান এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ৫ আগস্টের পর তিনি বিদেশে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী কোনো আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলে এক মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো যায়। রিয়াজের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ছাড়ানোর অভিযোগ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
