প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৮ এএম
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক কলা চাষ। প্রচলিত ধান, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এখন অনেক কৃষক লাভের আশায় কলা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কম সময়ে ফলন পাওয়া, সারা বছর বাজারে চাহিদা থাকা এবং তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় কলা চাষকে সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১২০ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলার আবাদ হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষিজমিতে দেখা গেছে সারি সারি কলাগাছের সবুজ সমারোহ। কেউ পতিত জমিতে, কেউ বসতবাড়ির আশপাশে আবার কেউ অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কলার বাগান গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলা চাষে তুলনামূলক কম সময়ে ফলন পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাজারে সারা বছর চাহিদা থাকায় উৎপাদিত কলা বিক্রি নিয়ে তেমন সমস্যা হয় না। তবে ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সময়ে সার ও পানি প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
একজন স্থানীয় কলাচাষি বলেন, “ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় কলায় নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। তবে বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভও ভালো হয়। এ কারণে প্রতিবছর কলা চাষের জমি বাড়ানোর চিন্তা করছি।”
আরেক কৃষক বলেন, “কলা চাষে রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়। সঠিক সময়ে সার, পানি ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা করা গেলে উৎপাদন ভালো হয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।”
বাজারজাতকরণে গুরুত্ব
কৃষকদের মতে, কলা উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারজাতকরণও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পীরগঞ্জের স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের উপজেলা ও জেলার বিভিন্ন বাজারে উৎপাদিত কলা সরবরাহ করা হয়। পরিবহন ব্যবস্থা ভালো থাকলে দ্রুত কলা বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হয় এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
স্থানীয় এক কলা ব্যবসায়ী বলেন, “পীরগঞ্জে উৎপাদিত কলার চাহিদা রয়েছে। মৌসুম ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম ওঠানামা করে। কৃষকেরা যদি দলবদ্ধভাবে কলা বাজারজাত করতে পারেন, তাহলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে এবং তারা ভালো দাম পেতে পারেন।”
আধুনিক প্রযুক্তিতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ
উপজেলা কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মতে, কলা একটি অর্থকরী ফসল। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, উন্নত জাতের চারা নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাইয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কলার উৎপাদন ও গুণগত মান আরও বাড়ানো সম্ভব। কৃষকদের কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া অনেকাংশে কলা চাষের জন্য উপযোগী। তবে অপরিকল্পিতভাবে জমিতে কলার আবাদ সম্প্রসারণ না করে মাটির গুণাগুণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, কলা চাষ শুধু কৃষকের আয় বৃদ্ধির মাধ্যম নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কলা উৎপাদন, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মানসম্মত চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সহযোগিতা এবং উৎপাদিত কলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পীরগঞ্জে কলা চাষ আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ১২০ একর জমিতে কলার আবাদ হলেও ভবিষ্যতে এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শক্তিশালী হতে পারে পীরগঞ্জের স্থানীয় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি।
