শুক্রবার ২৮, আগস্ট ২০২৬

শুক্রবার ২৮, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

নিত্যদিন লোডশেডিং, মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা, আইপিএস ব্যাটারি চুরি

মৌলভীবাজার থেকে রাজন হোসেন তৌফিক

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

নিত্যদিন লোডশেডিং, মোমবাতির আলোয় চিকিৎসা, আইপিএস ব্যাটারি চুরি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

 মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, চিকিৎসক ও নার্সরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জরুরি বিভাগে। বিদ্যুৎ চলে গেলে সেখানে মোমবাতির আলোয় চালাতে হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাসেবা। এতে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম। পাশাপাশি রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কক্ষ এবং মেডিকেল অফিসারের কক্ষটি পুরোপুরি অন্ধকার। অন্ধকারের মধ্যেই দুই কক্ষে মোমবাতি জ্বালিয়ে ডাক্তার ও স্টাফরা রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এসময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা অন্ধকারে পড়ে যাই। রোগীর প্রেসার, ইনজেকশন, সেলাইয়ের মতো জরুরি কাজগুলো মোমবাতির আলোয় করতে হয়। এটা রোগী ও আমাদের দুজনের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।

হাসপাতালে জেনারেটর ও আইপিএস থাকার কথা থাকলেও তা কেন সচল নেই এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বলতে পারবে।

হাসপাতালে আসা সেবাগ্রহীতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা টিএইচও-র কক্ষে এসি চালু থাকলেও দ্বিতীয় তলায় ভর্তিকৃত ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য ন্যূনতম ফ্যানের ব্যবস্থাও নেই। অথচ আইপিএস এবং জেনারেটর থাকার পরও সেগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।

এক রোগীর স্বজন বলেন, উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। অসুস্থ মানুষ নিয়ে এসে আমরা আরও অসহায় হয়ে পড়ি।

জানা গেছে, এর আগে হাসপাতালের ভেতর থেকে আইপিএসর ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ফলে যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আইপিএস ও জেনারেটর থাকার কথা। কিন্তু কেন সচল নয় বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জেনারেটর-আইপিএস মেরামত করে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় জরুরি মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

Link copied!