মঙ্গলবার ২৫, আগস্ট ২০২৬

মঙ্গলবার ২৫, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

নানা আয়োজনে যবিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন

ইয়ামিন আহমেদ,যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগের উদ্যোগে বর্ণিল শোভাযাত্রা, গবেষণা পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ, সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজনে এই দিনটি উদযাপন করা হয়।

 আজ মঙ্গলবার যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমবি বিভাগ আয়োজিত নানা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। আয়োজিত কর্মসূচি শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক হয়ে গবেষণা পুকুর সংলগ্ন রাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে গবেষণা পুকুরে বিভিন্ন জাতের পোনা অবমুক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।

 শোভাযাত্রা ও পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে বর্তমানে দেশি মাছের উৎপাদন কমতে শুরু করেছে। এই উৎপাদন কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেই বিষয়ে তোমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। মাছের অভয়ারণ্য তৈরিতে তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে মৎস্য চাষীদের নিয়ে ক্যাম্পেইন করে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে দেশের আমিষ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে আমরা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রপ্তানি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি মাছের নিরাপদ উৎপাদন বৃদ্ধি, ইলিশসহ দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ এবং মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের বলা হয় মাছে-ভাতে বাঙালি। এই স্লোগান যেন দীর্ঘজীবি হয় সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব তোমাদের। দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে মৎস্য খাতের অবদান অনস্বীকার্য। রুপালি মৎস্যে দেশকে পুরোপুরি স্বনির্ভর করতে হলে তোমাদের আরও সচেতন হতে হবে ও দেশের মৎস্য খাতের আধুনিক ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এফএমবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুর রহমান উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের রুপালি সম্পদের সুরক্ষা এবং টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে একটি আত্ননির্ভরশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বাংলাদেশে গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে যবিপ্রবির এফএমবি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সুব্রত মন্ডল, অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক, অধ্যাপক ড. মীর মোশাররফ হোসেন সহ এফএমবি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!