প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-র উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টি হল মসজিদ ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে ধর্মীয় পাঠাগার চালু করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘জাকসু রিলিজিয়াস লাইব্রেরি ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক এই প্রকল্পের আওতায় বই ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাকসু ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পাঠাগারগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্দিরে পাঠাগার স্থাপনের সুবিধার্থে ৫০ হাজার টাকার অনুদান তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সোহেল রানা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা নিয়মিত নানা ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিই। তবে কিছু আয়োজন আমাদের মানসিক প্রশান্তি, আত্মশুদ্ধি ও মূল্যবোধ চর্চার সুযোগ তৈরি করে দেয়। আজকের এই আয়োজনে উপস্থিত হয়ে আমি সত্যিই মানসিক প্রশান্তি অনুভব করছি।” ধর্মীয় এই লাইব্রেরিগুলোর পরিধি সম্প্রসারণ ও যথাযথ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধ হতাশায় ভোগা মানুষকে নতুন করে আশাবাদী ও অনুপ্রাণিত করতে পারে। এই লাইব্রেরিগুলোতে কেবল ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং জীবন, সমাজ ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত বইয়ের সংগ্রহ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় মন্দিরের স্থায়ী জায়গা নির্ধারণ ও তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
নবাব সলিমুল্লাহ হলের ইমাম ও লাইব্রেরির সিলেবাস সমন্বয়কারী সাইফুল্লাহ সাদ বলেন, মানবিক মানুষ এবং কল্যাণকর নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে ধর্মীয় জ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম। এই লাইব্রেরির বইগুলো শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান লাইব্রেরি বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরেন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে তিনি নারী হলগুলোর মসজিদ সংস্কারে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
জাকসু এজিএস ফেরদৌস আল হাসানের সঞ্চালনায় এ সময় বিভিন্ন হলের প্রোভোস্ট, জাকসু নেতৃবৃন্দ এবং হল সংসদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
