রবিবার ২৬, জুলাই ২০২৬

রবিবার ২৬, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

জবির বাইরে থেকে ট্রেজারার আসলে বয়কটের ঘোষণা জবি শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির রাশেদ,জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বহিরাগত কাউকে কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না জ

রাশেদুজ্জামান রাশেদ,জবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বহিরাগত কাউকে কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই এই পদে নিয়োগের দাবি জানিয়েছে জবি শিক্ষক সমিতি। আজ রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রপ্রতিনিধিরা এই একাত্মতা প্রকাশ করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, "আমরা যদি নিজেদের প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেজারার তৈরি করতে না পারি তবে সেটা চরম ব্যর্থতা। আমাদের নিজস্ব শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও সমস্যা যেভাবে বুঝবেন বাইরের কেউ এসে তা পারবেন না। জবিকে বারবার বিবেচনায় না নিয়ে বাইরে থেকে পদে বসানো হলে তা বৈষম্যের রূপ নেয়।" 

তিনি আরও বলেন, "আমাদের শিক্ষকরা যদি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য কিংবা কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হন তবে আমাদের নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন বাইরের কাউকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হবে? বর্তমানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪৫ জন অধ্যাপকসহ মোট ৭৩২ জন যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন। তাই ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ বা অন্য যেকোনো অনুষদ থেকে জবির যোগ্য কাউকেই নিয়োগ দিতে হবে।"


সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, "শিক্ষক সমিতি কেবল শিক্ষকদের সংগঠন নয়, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলভ শিক্ষার্থীর অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে।" 

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, "বাইরে থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি সরাসরি কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবে।" 

 

এছাড়া শিক্ষক সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা প্রসাশনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "জবি থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ না দেওয়া হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।"


এ সময় জবি থেকে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ কথা উঠে আসে। এজিএস মাসুদ রানা দাবি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত ৮০ শতাংশ জবির নিজস্ব শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, "৮০ শতাংশ নয়, মেধার ভিত্তিতে জবির শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ এর চেয়েও আরও বেশি হওয়া উচিত।"

 

ছাত্র প্রতিনিধি ফেরদাউস (ছাত্রশক্তি) অতীতের বৈষম্য ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে কথা তুলে ধরে বলেন, "বিগত সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ছাত্রলীগ করতো তাদের পুরষ্কার হিসেবে জবিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আমরা এই ধরনের কোনো বৈষম্য আর দেখতে চাই না।"
সংবাদ সম্মেলনে জবির 'টিম জগন্নাথ' হিসেবে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।

Link copied!