প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২১ এএম
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত ইলহাম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান ২০২৬ শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার অধ্যাপক ড. এবিএম হিজবুল্লাহ, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (আইআইআইটি) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক ড. এম. আব্দুল আজিজ এবং তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বিভিন্ন শ্রেণিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সৃজনশীল পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আধুনিক জ্ঞান এবং ইসলামী মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা প্রজন্মই দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবে। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা তাওহিদিক প্যারাডাইমভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা শুধু সৃষ্টি করেন না বরং তাঁর সৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষণও করেন। তাই সৃষ্টিজগতের প্রতি দায়িত্ববোধ, যত্নশীলতা এবং জবাবদিহিতার চেতনা শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, এ শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ আদর্শ শিক্ষক হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)।
তিনি বলেন, পৃথিবীর সব পরমাণুর মৌলিক গঠন একই হলেও প্রতিটি মানুষের বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতা ভিন্ন। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বতন্ত্র প্রতিভা ও যোগ্যতা চিহ্নিত করে তা বিকশিত করার মাধ্যমে দক্ষ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে ইলহাম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কারিকুলাম এবং তাহফিজুল কুরআনের সমন্বয়ে নৈতিক, দক্ষ ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষা দর্শন চারটি মৌলিক ডোমেইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো সুস্বাস্থ্য, যোগাযোগ দক্ষতা ও ভাষার বিকাশ, কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করায় এখানে শিক্ষাভীতি সৃষ্টি হয় না। হোমওয়ার্ক ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে অভিভাবকদের গৃহশিক্ষক বা কোচিংয়ের অতিরিক্ত চাপও বহন করতে হয় না।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সাইয়েদ হাম্মাদুল করিম বলেন, শিক্ষা যতই আধুনিক হোক না কেন, তা যদি কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষার সঙ্গে সমন্বিত না হয় তাহলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তার পূর্ণ কার্যকারিতা অর্জন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিসহ প্রায় ছয় শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। শেষে অতিথিরা ইলহাম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

