ছাইম ইবনে আব্বাস,এমসি কলেজ, সিলেট।
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট
দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর বহুল আলোচিত সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপর চার আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার জনাকীর্ণ আদালতে এ বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেন। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং কড়া প্রহরায় আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতের রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে জিম্মি করে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তীতে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী, তাঁর স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এবং এমসি কলেজের অধ্যাপকসহ মোট ২৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বহুল আলোচিত এই মামলার রায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনের খালাসের মাধ্যমে মামলার প্রথম ধাপের বিচারিক কার্যক্রমের সমাপ্তি হলো।