রবিবার ০৫, জুলাই ২০২৬

রবিবার ০৫, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

সাময়িক বরখাস্ত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ পিএম

ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কল্যাণাংশু নাহা-কে শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।‎উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ২ জুলাই স্বাক্ষরিত হলেও আজ ৪ জুলাই (শনিবার) প্রকাশ্যে আসে।

‎বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন ২০২৬ তারিখে ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রেসিভ টিচার্স সোসাইটি’ (Bangladesh University Progressive Teachers Society) নামক একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কল্যাণাংশু নাহা ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার বিষয়ে করণীয় উল্লেখ করে পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ও অডিও রেকর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

‎অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৬ এর ধারা ৪৩ (৪) এবং Jatiya Kabi Kazi Nazrul Islam University Employees (Efficiency & Discipline) Statutes অনুযায়ী, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কল্যাণাংশু নাহা-কে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তবে সাময়িক বরখাস্তকালীন নিয়ম অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

‎যোগাযোগ করা হলে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসান মুঠোফোনে জানান, "গত সপ্তাহে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মিজানুর রহমান ছুটিতে থাকায় আমি দায়িত্ব পালন করেছি। তবে আজ শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় এ বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না।"

‎এদিকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কল্যাণাংশু নাহা’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, "আমার হাতে চিঠিটি এখনো পৌঁছায়নি। তাই এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করব না।"

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোশারফ হোসেন বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা শিক্ষক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তিনি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে এমন কনভারসেশন করেছেন, যা আমাদের নজরে এসেছে। তাই বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার স্বার্থে আমরা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামীকাল রবিবার চিঠি ইস্যু করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।"

Link copied!