শুক্রবার ২৬, জুন ২০২৬

শুক্রবার ২৬, জুন ২০২৬ -- : -- --

প্রকল্প বাস্তবায়নে নজরদারি জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকছে ড্যাশবোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

প্রকল্প বাস্তবায়নে নজরদারি জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থাকছে ড্যাশবোর্ড

উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি বাড়াতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ ড্যাশবোর্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যালয়েও পৃথক ড্যাশবোর্ড থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে দি ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ড্যাশবোর্ড থাকবে। মন্ত্রীদের কার্যালয়েও ড্যাশবোর্ড থাকবে। প্রকল্পের কাজের গতি কেমন—তা প্রতিদিন সেই ড্যাশবোর্ডে থাকবে। আমরা যদি নির্ধারিত সময়ে ৮০ শতাংশ প্রকল্পের কাজও শেষ করতে পারি, তাহলে ভালো প্রবৃদ্ধি হবে।’

তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য শুধু বাজেট প্রণয়ন নয়, বরং তা কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা। এ জন্য প্রকল্পের অগ্রগতি দৈনিক ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণের নতুন ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সভায় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বাজেটের মডেলে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। আমরা অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের কথা বলেছি; যাতে দেশের সব মানুষ অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি হয়ে গিয়েছিল। একটি গোষ্ঠীই সব সুযোগ-সুবিধা পেত। তারা খুবই ক্ষমতাধর ছিল। আমরা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলাম।’

তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক সুযোগ–সুবিধা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বাজেট কাঠামোয় পরিবর্তন জরুরি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, সরকার সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও তা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘তবে শেষ পর্যন্ত সাড়ে ৩ শতাংশ হলে কপালে দুঃখ আছে। এত কর ও সুদ দিয়ে দেশে ব্যবসা হবে না। নীতি সুদহার কমাতে হবে। না হলে বেসরকারি খাতে গতি আসবে না। অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলে আসবে। তখন হয়তো মূল্যস্ফীতি বাড়বে না; কিন্তু আরও গরিব দিকে চলে যাবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-এর গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনূস, সায়মা হক বিদিশা, এ টি এম নূরুল আমিন এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর এ ধরনের রিয়েল-টাইম নজরদারি চালু হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সময়ানুবর্তিতা বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Link copied!