প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌর এলাকার দোলাবাড়ী ঋষিপাড়ায় মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের জেরে অর্চনা রানীর বিরুদ্ধে একের পর এক হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধন থেকে মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) বিকেলে ঋষিপাড়ার শ্রী শ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে স্থানীয় জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারকে কেন্দ্র করে অর্চনা রানী ঋষি মন্দির কমিটির সদস্য এবং এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন মামলা করে আসছেন। তাদের দাবি, মন্দিরের জমিতে নিজের মালিকানা দাবি করলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কালিপদ ঋষি বলেন, "আমি ২০১৬ সাল থেকে মন্দিরের কমিটির সভাপতি। এই মন্দিরের জায়গা আত্মসাতের জন্য অর্চনা রানী ঋষি আমার নামে ও বিমল ঋষির নামে ধর্ষনের মামলা দেয়। এতে আমি ১ মাস জেল খেটে নির্দোষ প্রমানিত হয়ে মুক্ত হই। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে আমার ছেলের নামে ও নাতির নামে ধর্ষন মামলা ও অপহরণ মামলা দেয়। এই মহিলার যন্ত্রনায় আমরা সুষ্ঠভাবে বসবাস করতে পারছি না। মাননীয় সাংসদ ও প্রশাসনের কাছে আমাদের আবেদন করছি আমাদেরকে এই মহিলার কাছ থেকে বাঁচান।"
ফুলমতি রানী ঋষি বলেন, "অর্চনা রানী জবর খারাপ। জবর যন্ত্রনা দিতাছে। নারী নির্যাতন মামলা দিতাছে। পোলাপাইনরে হয়রানি করতাছে। পুলিশ লইয়া ঘুরাঘুরি করতাছে। নিজের পুতেরে নিজে সামলাইয়া থুইয়া আবার কইতাছে আমরা বলে মাইরা ফালাই থুইয়া রাখছি।"
মমতা রানী ঋষি বলেন, "অর্চনা ঋষি আর তার জামাই মিল্লা পুরা গ্রামের মানুষরে হয়রানি করতাছে। গাওডারে তছনছ কইরা লাইতাছে। আমরারে মন্দির তুলবার দিতাছে না, বাধা দিতাছে। যাইয়া যাইয়া পুলিশ লইয়া আইয়ে।"
বিনা রানী ঋষি বলেন, "মহিলাডা একটা অসভ্য মহিলা। মহিলাডা একলা অই সারা দুনিয়া উল্ডায় লাইতাছে! তার অত্যাচারে আমরা থাকতে পারতেছি না।"
সুদর্শন চন্দ্র ঋষি বলেন, "মন্দিরের জায়গা নিয়া দীর্ঘ দিন ধইরা অর্চনা রানী ঋষি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতাছে। গেছে কাল আমার ভাই-ভাতিজার নামে মিথ্যা ধর্ষনের মামলা করছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট। আমরা চাই প্রশাসন তদন্ত কইরা এর বিচার করুক।"
কাজল চন্দ্র ঋষি বলেন, "আমরা উনার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ। আমরা লুকায়া থাহা লাগে। আমরা উনার কাছ থেকে মুক্তি চাই। উনার জন্য আমরা মন্দিরে কোনো কাজ করতে ফারি না। পূজা দিতে ফারি না। কোনো কাজ করতে গেলেই ক’ আমরা মারতে গেছি। ফরে মামলা অ কইরা দে।"
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং চলমান বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।
