মঙ্গলবার ২৩, জুন ২০২৬

মঙ্গলবার ২৩, জুন ২০২৬ -- : -- --

জাককানইবিতে গাঁজা সেবন ইস্যুতে জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রের উপর হামলা

জাককানইবি থেকে রবিউল ইসলাম শাকিল

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম

ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) বিদ্রোহী হলে গাঁজা সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (২১ জুন) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহী হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে সোমবার মাঝ রাত পর্যন্ত উত্তপ্তকর অবস্থা বজায় ছিলো।

আহত শিক্ষার্থী হান্নান আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের (১৩তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিদ্রোহী হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে হান্নান ও দর্শন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ রুমমেট হিসেবে বসবাস করতেন। মুগ্ধের বিরুদ্ধে গাঁজা সেবনের অভিযোগ এনে হান্নান বিষয়টি হল প্রশাসনকে অবহিত করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শন করেন। তবে পরিদর্শনের সময় কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। পরে হান্নান কক্ষে ফিরে অ্যাশট্রেতে গাঁজার অংশবিশেষ দেখতে পান বলে দাবি করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হান্নান মুগ্ধকে চড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জেরে রাতে বিদ্রোহী হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে খাবার খাওয়ার সময় মুগ্ধসহ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী হান্নানের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

হামলায় গুরুতর আহত হন হান্নান। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হলের হাউজ টিউটর খাইরুল ইসলামও আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, হাতাহাতির একপর্যায়ে সিনিয়র শিক্ষার্থী তাকে বুকে লাথি মারায় তিনি আহত হন। পরে তার সহপাঠীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এবং দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের একাধিক সূত্র জানায়, রাত প্রায় ১২টার দিকে আইন ও বিচার বিভাগের একদল শিক্ষার্থী অগ্নিবীণা হলে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের খুঁজতে যান। সেখানে কাউকে না পেয়ে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি কক্ষে প্রবেশ করে জিনিসপত্র এলোমেলো করার অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Link copied!