মঙ্গলবার ২৩, জুন ২০২৬

মঙ্গলবার ২৩, জুন ২০২৬ -- : -- --

নোবিপ্রবিতে ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপিত

নোবিপ্রবি থেকে রাকিব মোহাম্মদ আরজু

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম

ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনে ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন ২০২৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান (এমপি), নোয়াখালী-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (এমপি),বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মামুন আহমেদ এবং নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক  ড. গোলাম রব্বানী।

সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদানের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচিসমূহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এরপর কেক কাটা ও বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ‘নোবিপ্রবির অর্জন’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অডিটোরিয়ামে সভার শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস এবং ডিনস ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া। আজকের এ দিনে আমি বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আজ যে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে এটি প্রদান করা হয়।

আজ যারা এটি অর্জন করলে তারাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন। আমাদের প্রত্যাশা নোবিপ্রবি একটি সেন্টার অব এডুকেশনাল এক্সিলেন্স হবে। শিক্ষা ও গবেষণায় এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আপনারা আরও উন্নত অবস্থানে নিয়ে যাবেন এ প্রত্যাশা করছি। ইতিমধ্যে হিট প্রজেক্টের মাধ্যমে বেশ কিছু গবেষণা প্রজেক্ট এ বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিয়েও নোবিপ্রবি জায়গা করে নিয়েছে। যা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের। একটি আধুনিক এবং ইনক্লুসিভ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে লেখাপড়া এবং গবেষণার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হতে পারে। ভবিষ্যতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন আমরা তা করবো।
 
নোবিপ্রবির ওশানোগ্রাফি বিভাগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজ আমরা ব্লু ইকোনমি নিয়ে কাজ করছি। এর প্রবক্তা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনিই সর্বপ্রথম ব্লু ইকোনমির ধারণা দিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে আমাদের যে সমুদ্র সম্পদ রয়েছে তা কাজে লাগাতে পারলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবো। আমরা আধুনিক প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়ে আসছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করছেন। গত বছরের তুলনায় শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। মেয়েদের উপবৃত্তি চালুসহ দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষা খাতের যে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা অব্যাহত রেখেছেন। দেশের জনসংখ্যাকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে আমাদের মাথাপিছু আয় অনেক বেড়ে যাবে। শিশুদের নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিটি সেক্টরকে আমরা ঢেলে সাজাচ্ছি। একই সঙ্গে মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে আমরা কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করবো না। আমরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত বিনির্মাণে কাজ করছি।  

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আধুনিক শিক্ষায় আমরা হবো বিশ্বসেরা। জাতি হিসেবে এ অবস্থানে পৌঁছানো শুধুমাত্র শিক্ষার মাধ্যমে সম্ভব। কিন্তু আগামীর বাংলাদেশ গড়তে যারা নেতৃত্ব দেবে তাদের লেখাপড়া করতে হবে। শিক্ষার মাধ্যমেই আমরা গড়ে তুলবো আগামীর বাংলাদেশ।
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ মো. শাহজাহান বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি আমাদের একটি আবেগের জায়গা। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে নোয়াখালীতে তেমন কোনো অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়নি। তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে যখন আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছি তখনই এ অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। এ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের শিক্ষার্থীদের আলোর পথে নিয়ে যাবে, এর চেয়ে বড় স্বার্থকতা আর কি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন এবং একাডেমিক শিক্ষার অগ্রগতিতে ভবিষ্যতে আরও কি কি কাজ করা যায় সেদিকে মনোনিবেশ করবেন- এ প্রত্যাশা করি। খুব দ্রতই এখানে একটি ইনোভেশন হাব স্থাপিত হবে। আশা করবো সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং ভাষা ইনস্টিটিউটসহ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যত প্রকল্পসমূহ সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হবে। আমরা এ প্রতিষ্ঠান থেকে নাগরিক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ তৈরি হবে- এ প্রত্যাশা করি।

সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় যারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন আজকের এই আয়োজনে তাদেরকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে। আমি সত্যিকার অর্থে নোবিপ্রবির এই উদযাপন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আনন্দ অনুভব করছি। আনন্দ অনুভব করছি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, এ কারণে যে আমি এখানকার সন্তান। এখানকার মাটি, মানুষ, রেমিট্যান্স থেকে শুরু করে এ অঞ্চলের মানুষের সংগ্রামী জীবন সবকিছুই আমার জানা। এই বিশ্ববিদ্যালয় জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত যে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে তার নিরব স্বাক্ষী হিসেবে আমি গর্ব অনুভব করি।

এ সময় তিনি আরও বলেন, আজ থেকে ২০ বছর আগে এ বিশ্ববিদ্যালয় জন্মগ্রহণ করেছে। এ অঞ্চলের মানুষ তথা বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবেই বিদ্যানুরাগী। দীর্ঘকাল থেকেই এ অঞ্চলের মানুষের একটি আকাক্সক্ষা ছিলো যে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজকের এই দিনে সুযোগ্য নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। তিনি নিজের হাতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি শুধুমাত্র ইট-সিমেন্টের একটি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেননি বরং সেদিন বেগম জিয়া একটি বীজ বপন করেছিলেন, যা আজ ডাল-পালা বিস্তৃত করে বিরাট মহীরুহে পরিণত হয়েছে। নোবিপ্রবি উচ্চশিক্ষা, গবেষণাসহ সকল ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। র‌্যাঙ্কিংয়ের যেকোনো প্যারামিটারে নোবিপ্রবি এখন বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য যেমন পরিবেশ প্রয়োজন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সবটাই রয়েছে। আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম  রব্বানী বলেন, বক্তব্যের শুরুতেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই ২০০৬ সালে আজকের দিনে নোবিপ্রবি যাত্রা শুরু করে। একই সঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদসহ এর প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখেছেন সবাইকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরে সকল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে কাজ করার অনেকগুলো সুযোগ খুঁজে পেয়েছি, যা পর্যায়ক্রমে সম্পাদন করা হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের আবাসন ও ক্লাসরুম সংকটসহ বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। একাডেমিক ভবন-৩ এবং আরও আবাসিক হল নির্মাণ সম্পন্ন হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। আবাসিক হল নির্মাণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে আমি সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সমস্যা নিয়ে তোমরা আমার কাছে আসবে এবং কথা বলবে। আমি সমাধান করার চেষ্টা করবো। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আমরা সবাই দায়িত্বশীল হবো এবং সবাই মিলে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমরা নীতি,  নৈতিকতা এবং সততার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে তার চেয়ে আরও ভালো অবস্থানে নেয়ার চেষ্টা করবো- এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আজকের এ মহতী অনুষ্ঠানে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। আজকের এই ক্ষণে আমি স্মরণ করছি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। যার দুরদর্শী নেতৃত্ব এবং উচ্চশিক্ষা বিস্তারের মহান উদ্যোগের ফলে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল খায়েরকে, যার অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের অন্যতম আর্কষণ হলো, আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং গবেষণায় অবদান রাখা শিক্ষকদের সম্মননা প্রদান। এ বছর ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ২৩জন শিক্ষার্থী নোবিপ্রবির ৭টি অনুষদের। এ অর্জন শুধু তাদের একার নয়, এটি তাদের পরিবার, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের। আমি এই কৃতি শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তাদের ভবিষৎ জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি। একইভাবে গবেষণায় অবদান রাখা শিক্ষকবৃন্দ আজ পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন। তাদের এ সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন নোবিপ্রবি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়া তাবাস্সুম। আলোচনা সভা শেষে নোবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নোবিপ্রবি প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল খায়েরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপাচার্যের পক্ষে তার মেয়ে অধ্যাপক সিলভিয়া খায়ের সম্মাননা গ্রহণ করেন। এরপর মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন নোবিপ্রবির স্মার্ট কম্পিউটিং ল্যাব, শিশু পার্ক, সাইনেজ, নীল দীঘির পুকুর ঘাট, ৩৩/১১ সাব স্টেশন ও ওয়েবসাইটের শুভ উদ্বোধন করেন।

সভায় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র প্রতিনিধিসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, নিজ নিজ অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ডের ঘোষণা প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট ডিনবৃন্দ। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নোবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের ২৬জন শিক্ষক এবং ২৩জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেয়েছেন। পাশাপাশি ৩টি ক্যাটাগরিতে (রিসার্চ এক্সিলেন্স, ইয়ং রিসার্চার এক্সিলেন্স এবং বেস্ট উইমেন রিসার্চার) ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।

Link copied!