মঙ্গলবার ২৩, জুন ২০২৬

মঙ্গলবার ২৩, জুন ২০২৬ -- : -- --

আইটিইটির নতুন নেতৃত্বের কাছে পেশাগত উন্নয়ন ও ঐক্যের প্রত্যাশা

সানজানা শওকত,বুটেক্স প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ছবি। ক্যাম্পাস রিপোর্ট

আগামী ২৬ জুন ,২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশের ১৫তম কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নির্বাচন।

এবারের নির্বাচনে দুটি প্যানেলের প্রার্থীরা বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের প্রচারণা, সদস্যদের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচন ঘিরে আলোচনা-পর্যালোচনায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সদস্যদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাগত অধিকার, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আইটিইটির সদস্যরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব বাছাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সদস্যদের মধ্যে আগের তুলনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, ইশতেহারভিত্তিক আলোচনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণাকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন অনেকেই। একই সঙ্গে নির্বাচন শেষে সবাইকে সংগঠন ও পেশার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।

বুটেক্সের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক এবং আইটিইটির একজন সদস্য ড. মো সাইদুজ্জামান বলেন, “আমি মনে করি আইটিইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য একটি যুগোপযোগী বেতন কাঠামো, বিসিএস ক্যাডার সৃষ্টির দাবি এবং বস্ত্র ও পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা। একই সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন জোরদার করে ইন্ডাস্ট্রি-বেজড প্রজেক্ট ও স্কলারশিপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পখাতের বাস্তব সমস্যার সমাধান একসঙ্গে এগিয়ে যায়। এবারের নির্বাচনে আমি লক্ষ্য করছি, সদস্যরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন এবং প্রার্থীদের কর্মপরিকল্পনা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমার বিশ্বাস, ব্যক্তিগত পরিচিতির বাইরে গিয়ে সদস্যরা এবার সংগঠনের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সবচেয়ে সক্ষম নেতৃত্বকেই বেছে নেবেন। সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে আইটিইটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার, মর্যাদা এবং পেশাগত উন্নয়নে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।”

আইটিইটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রভাষক জাকারিয়া ইসলাম ঝিকু বলেন, “নির্বাচিত নেতৃত্বকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থান, পেশাগত অধিকার, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং সদস্যদের জন্য কার্যকর সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি বুটেক্স অধিভুক্ত ১১টি সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট সমাধানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও রোডম্যাপ দিতে হবে। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর সততা, অতীত কর্মকাণ্ড, নেতৃত্বগুণ এবং বাস্তবসম্মত ইশতেহারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। এবারের নির্বাচন হলো ইতিবাচক ও উৎসবমুখর। একই সঙ্গে আমি আশা করি নির্বাচনের পর সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং দেশের স্বার্থে কাজ করবে।”

বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের টেকনিকাল অফিসার এবং আইটিইটির সদস্য মো আমজাদ আলী বলেন, “আমি আশা করি নতুন নেতৃত্ব বিশেষ করে তরুণ টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের ক্যারিয়ার উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, নেটওয়ার্কিং এবং শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেবে। এবারের নির্বাচনে সদস্যদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ আগের তুলনায় অনেক বেশি, যা সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। আমি লক্ষ্য করেছি, প্রার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে এবং সংগঠনের উন্নয়ন নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি এমন প্রার্থীদের প্রাধান্য দেব, যারা শুধু প্রতিশ্রুতি দেন না, বরং অতীত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা ও দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, এই নির্বাচনের মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব উঠে আসবে, যারা আইটিইটির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।”

আইটিইটি সদস্য এবং এসকিউ গ্রুপের মার্চেন্টডাইজার আরমান ইসলাম বলেন, “নতুন নেতৃত্বের কাছে আমার প্রত্যাশা হলো তারা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিয়ারদের পেশাগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সংকটকালীন আইনি ও আর্থিক সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমি আরও মনে করি নির্বাচনে প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত কাজ, ভিশন ও ইশতেহারভিত্তিক; কোনো রাজনৈতিক বিভাজনের ভিত্তিতে নয়। ভোটাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা, সততা, গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি এমন নেতৃত্বকেই প্রাধান্য দিব , যিনি সকলকে সমানভাবে মূল্যায়ন করবেন এবং সাধারণ ইঞ্জিনিয়ারদের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিতে পারবেন। আমি আশা করি এবারের নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক, যেখানে দিনশেষে সবাই সংগঠন ও পেশার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।”

সদস্যদের প্রত্যাশা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর এই নির্বাচন শেষে নতুন নেতৃত্ব সংগঠনের ঐক্য অটুট রেখে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

Link copied!