প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
বাংলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা ও সাহিত্যবিষয়ক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে শিশুসাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই) এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন, কর্ম, সাহিত্য ও শিক্ষাচিন্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রবি ও সোমবার (২১ ও ২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী ভবনে বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের প্রথম দিনের প্রতিপাদ্য ছিল “রোকনুজ্জামান খান: বাস্তবতাবোধ ও জীবনদর্শন” এবং দ্বিতীয় দিনের প্রতিপাদ্য ছিল “রোকেয়া : তাঁর সাহিত্য, শিক্ষাব্রত ও জাগৃতি-সাধনা”।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, রোকনুজ্জামান খান কেবল একজন সাহিত্যিকই ছিলেন না, বরং এ দেশের শিশুকিশোরদের উন্নত মনন গঠনে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। কয়েক প্রজন্মের শিশুকিশোরদের কাছে তিনি ‘দাদাভাই’ নামে সমধিক পরিচিত। ‘কচিকাঁচার মেলা’ সংগঠন এবং দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচিকাঁচার আসর’-এর সঙ্গে তাঁর নাম চিরকাল ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকবে। তিনি ছড়াকবিতার মধ্য দিয়েই অনন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছেন।
প্রথম দিনের আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আবু দায়েন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পিয়াস মজিদ।
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম দিনের সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আনিস রহমান।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় উঠে আসে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের শিক্ষা সংগ্রাম, সাহিত্যকর্ম এবং নারী জাগরণে তাঁর অবদান। বক্তারা বলেন, প্রথাগত সমাজব্যবস্থার নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নারী শিক্ষার প্রসারে তিনি সাহসী ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। একই সঙ্গে সাহিত্যকে সমাজচেতনা জাগ্রত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির অনুবাদ উপবিভাগের উপপরিচালক সায়েরা হাবীব।
দ্বিতীয় দিনের সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান।
আয়োজনের আহ্বায়ক হিসেবে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা আখতার।
আহ্বায়কের বক্তব্যে ড. ফারহানা আখতার বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে ২১ ও ২২ জুন জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রথম দিনে শিশুসাহিত্যিক ও সংগঠক রোকনুজ্জামান খানের স্মরণে "রোকনুজ্জামান খান: বাস্তবতা বোধ ও জীবন দর্শন" এবং দ্বিতীয় দিনে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্য ও শিক্ষাব্রত নিয়ে "রোকেয়া: সাহিত্য, শিক্ষাব্রত ও জাগৃতি সাধনা" শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে বিশিষ্টজন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন এবং আলোচনা রেখেছেন। আশাকরি এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সকলে উপকৃত হবেন।”
