প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে লিচুর মৌসুম এখন শেষ পর্যায়ে। বাগানজুড়ে চলছে লিচু সংগ্রহের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কেউ গাছ থেকে লিচু পাড়ছেন, কেউ পাতা থেকে ছাড়িয়ে কার্টন ও লটে ভরছেন, আবার ব্যবসায়ীরা ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশের নানা প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন সুস্বাদু এই ফল। লিচুর ভরা মৌসুমে মালিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক—সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষি বিভাগ ও চাষিদের আশা, বাম্পার ফলনের কারণে এ বছর ঈশ্বরদীসহ পাবনা জেলায় লিচু বিক্রি থেকে আয় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় চাষিদের সূত্রে জানা যায়, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, লিচুর উৎপাদন আশাতীত হয়েছে। চাষিদের ভাষায়, এ বছর লিচুর ‘অন ইয়ার’ হওয়ায়, গাছে গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় মোজাফফরী বা আঁটি লিচু বাজারে আসে। বর্তমানে বিখ্যাত বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচুর ভরা মৌসুম চলছে।
কৃষিতে তিনবার রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী জানান, প্রথমদিকে ঈশ্বরদীর জয়নগর, মানিকনগর ও মিরকামারি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ শুরু হয়। বর্তমানে ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর ও পাবনা সদরসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় লিচুর আবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তা ও সচ্ছল কৃষকও এখন লিচু চাষে বিনিয়োগ করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৭২৩ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঈশ্বরদী উপজেলাতেই রয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর লিচু বাগান। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর সাধারণত ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়। তবে এ বছর উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায়, বিক্রির পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
চাষিরা সবচেয়ে বেশি আবাদ করেছেন বোম্বাই জাতের লিচু। এছাড়া বেদানা, কদমী, দেশি আঁটি বা মোজাফফরী এবং চায়না-৩ জাতের লিচুও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদিত হয়েছে। ঈশ্বরদীর সলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৫ হাজার লিচুচাষি এ ফল চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
স্থানীয় লিচুচাষি আব্দুল জলিল কিতাব মণ্ডল বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান থেকে প্রতি ১০০টি লিচু মানভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দাম আরো বেশি।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, ‘এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় প্রায় ৩৫ হাজার টন লিচু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। উৎপাদন ও বাজারমূল্য বিবেচনায় কৃষকরা ভালো লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি।
