রবিবার ২৬, জুলাই ২০২৬

রবিবার ২৬, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

সিকৃবির সড়কে আধুনিক বাতি

সিকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

ছবি।ক্যাম্পাস রিপোর্ট

রাত নামলেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চিত্র বদলে যায়। দিনের প্রাণচাঞ্চল্য স্তিমিত হলেও থেমে থাকে না শিক্ষা, গবেষণা কিংবা শিক্ষার্থীদের চলাচল। কেউ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করেন, কেউ গবেষণাগারে কাজ করেন, আবার কেউ সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করেন। তাই একটি নিরাপদ ও আলোকিত ক্যাম্পাস শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং চলাচলের বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপনের ফলে রাতের ক্যাম্পাসে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।

বিশেষ করে রাত পর্যন্ত লাইব্রেরিতে অধ্যয়ন, গবেষণাগারে কাজ কিংবা সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শেষে আবাসিক হলে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই আলোকসজ্জা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

বর্তমান সময়ে বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে উন্নত আলোকসজ্জাকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সিকৃবির এই উদ্যোগও সেই ধারার অংশ।

আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় বহন করবে। রাতের বেলায় আলোকিত সড়ক যেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, তেমনি ক্যাম্পাসের নান্দনিকতাও বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম বলেন,"বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপনের ফলে ক্যাম্পাস আরও আলোকিত হবে। এর মাধ্যমে রাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক পরিবেশ আরও সুন্দর ও আধুনিক হবে। শিক্ষার্থীরা রাতে লাইব্রেরি কিংবা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে।"

তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান শুধু শ্রেণিকক্ষ বা গবেষণাগারের ওপর নির্ভর করে না; নিরাপদ পরিবেশ, উন্নত অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সুবিধাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা থাকলে ক্যাম্পাসে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে, অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পরও একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

ডিজিটাল ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিকৃবি ইতোমধ্যে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপনের এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

একটি আলোকিত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যাশা। শিক্ষার্থীরাও মনে করছেন, এ ধরনের উন্নয়ন শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

Link copied!