প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪১ পিএম
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ফিশারিজ বিভাগের ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাবিত হাসান চীনের মর্যাদাপূর্ণ চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস এবং অ্যালায়েন্স অফ ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স অর্গানাইজেশনস এর পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। এ স্কলারশিপের আওতায় তিনি চীনের ইউনিভার্সিটি অফ চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস এর ইনস্টিটিউট অফ হাইড্রোবায়োলজি তে মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে অবস্থিত একটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণা কেন্দ্র। এটি অভ্যন্তরীণ জলজ জীবন, বাস্তুসংস্থান এবং জলজ সম্পদের উপর গবেষণা করে। ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম প্রদান করে এবং এশিয়ার বৃহত্তম স্বাদু পানির মাছের জাদুঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিচালনা করে।এ
সম্পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক এই স্কলারশিপের আওতায় তিনি মাসিক ৪ হাজার চীনা ইউয়ান ভাতা, আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া এবং উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা পাবেন।
জাবিপ্রবি থেকে ফিশারিজ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা সাবিত হাসানের সিজিপিএ ৩.২৯৮। তবে তাঁর উচ্চশিক্ষার এ সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিল গবেষণায় দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর ১১টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি একাধিক গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করে তথ্য সংগ্রহ, উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং গবেষণা পরিচালনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে সাবিত হাসান বলেন, “তুলনামূলকভাবে কম সিজিপিএ এবং শুধুমাত্র এমওআই নিয়ে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই স্কলারশিপ অর্জন সহজ ছিল না। তবে গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশিত গবেষণাপত্রগুলো আমার আবেদনকে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, নিজের প্রতি বিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার এই পথচলায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন আমার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা। ২০২০ সালে শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আরিফুল হক স্যারের মাধ্যমে গবেষণার জগতে যাত্রা শুরু করি। পরবর্তীতে বিভিন্ন গবেষণাকাজে নিয়মিত যুক্ত ছিলাম। পাশাপাশি মো. ফখরুল ইসলাম (সুমন) স্যারের দিকনির্দেশনা এবং ইমিডিয়েট সিনিয়র মো. মেহেদী হাসান (সানি) ভাইয়ের সহযোগিতা এই স্কলারশিপ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
সাবিতের গবেষণা সুপারভাইজার ও ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ আলী বলেন, “সাবিত আমার দুটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করেছে। সে অত্যন্ত পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল এবং গবেষণায় দক্ষ। এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কলারশিপ তার প্রাপ্য ছিল। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও সে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে।”
ফিশারিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে সাবিত চীনে এই পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ অর্জন করেছে। এটি শুধু ফিশারিজ বিভাগের নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যই গর্বের বিষয়। তাঁর এই অর্জন ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা মনে করেন, সাবিত হাসানের এই সাফল্য ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাবিপ্রবিতে গবেষণার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
