রবিবার ০৭, জুন ২০২৬

রবিবার ০৭, জুন ২০২৬ -- : -- --

৬২ ভাগ শিক্ষার্থী চান জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষা অধিকার সংসদের পরিচালিত এক জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রের বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় বিদ্যমান শিক্ষা বাজেট পর্যাপ্ত নয়। 

তাদের দাবি, শিক্ষা খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা কার্যক্রম এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদ এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। সেখানে সংগঠনটির সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন জরিপের ফলাফল ও বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু সাদাত মো. মোস্তানসির বিল্লাহ, মিসবাহুর রহমান আসিম, মাহফুজুর রহমান মানিক, মিনহাজুল আরেফিন এবং মাজহারুল ইসলাম।

সংগঠনটির তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৫০ জন শিক্ষার্থী এ জরিপে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ১ শতাংশ ছিলেন স্নাতক পর্যায়ের এবং ৩৬ শতাংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জরিপে অংশগ্রহণ করেন।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত না হলে উচ্চশিক্ষাসহ অন্যান্য স্তরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নেও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা মনে করেন, ভবিষ্যতের কর্মবাজার এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের জন্য মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগকে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দক্ষ শিক্ষক ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

জরিপে শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে দুর্নীতি, অর্থের অপচয়, কার্যকর পরিকল্পনার অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল তদারকির বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিমত, কেবল বাজেটের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না; বরং বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জরিপের সার্বিক ফলাফলে উঠে এসেছে যে, শিক্ষার্থীরা এমন একটি শিক্ষা বাজেট প্রত্যাশা করেন যা গুণগত শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সুশাসনভিত্তিক শিক্ষা সংস্কারকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

Link copied!