রবিবার ০৭, জুন ২০২৬

রবিবার ০৭, জুন ২০২৬ -- : -- --

হাবিপ্রবিতে নম্বরের শর্ত, লাগাতে হবে গাছ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম

প্রতীকী ছবি।

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) মার্কেটিং বিভাগ। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. ইউসুফ ঈদুল আজহার ছুটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি অ্যাসাইনমেন্ট নির্ধারণ করেছেন, যেখানে নম্বর পেতে হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগাতে হবে।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মার্কেটিং বিভাগের ২৪তম ও ২৫তম ব্যাচের প্রায় ১১০ জন শিক্ষার্থীকে ছুটিকালীন অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে একটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই কাজ সম্পন্ন করলে একজন শিক্ষার্থী ১ নম্বর অর্জন করবে।

এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. ইউসুফ বলেন, ‘আমি মনে করি, একজন শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বরের একটি ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি সমাজ ও দেশের ওপর পড়া উচিত। আমরা পড়াশোনা করি মূলত জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য। তাই এই বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে যদি প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ লাগায়, তাহলে এর সম্মিলিত প্রভাব ভবিষ্যতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে।’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। মার্কেটিং বিভাগের ২৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাসেল রায় বলেন, ‘এর আগে গাছ লাগানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার অনুভূতিটা একটু ভিন্ন ছিল। কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগতভাবে গাছ লাগানো নয়, আমাদের ২৪ ও ২৫ ব্যাচের সবাই মিলে একটি ভালো উদ্যোগের অংশ হওয়া ছিল। ভাবতে ভালো লাগে যে আমরা সবাই মিলে পরিবেশের জন্য ছোট হলেও একটি ইতিবাচক কাজ করেছি।’

২৫তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছি। নিজের হাতে একটি চারা রোপণ করে এক ধরনের আনন্দও পেয়েছি। ছোট্ট এই গাছটি বড় হয়ে পরিবেশের উপকার করবে, এই ভাবনাটি ভালো লেগেছে।’

বৃক্ষরোপণকে শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিকে সময়োপযোগী বলে মনে করেন কাজী মো. ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘স্নাতকের সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে জাতীয় পর্যায়ে সংযুক্ত করার ধারণা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিপাইনে ‘গ্রাজুয়েশন লিগ্যাসি ফর দ্য এনভায়রনমেন্ট ’ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্নাতকের আগে নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ লাগাতে উৎসাহিত করার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়; সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরিরও একটি মাধ্যম। তাই স্নাতকের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে যুক্ত করা সময়োপযোগী ও অর্থবহ উদ্যোগ হতে পারে।’

পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে নেওয়ার এ উদ্যোগকে ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে প্রশংসনীয় ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Link copied!