রবিবার ৩১, মে ২০২৬

রবিবার ৩১, মে ২০২৬ -- : -- --

গরুর মাংস কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে গরুর মাংস খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তবে গরুর মাংস স্বাস্থ্যকর নাকি ক্ষতিকর—এ নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে অনেকেই গরুর মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলেন। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক পরিমাণ ও উপযুক্ত উপায়ে গ্রহণ করলে গরুর মাংস শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের মতে, গরুর মাংস উচ্চমানের প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পাশাপাশি এতে রয়েছে জিঙ্ক, আয়রন, ফসফরাস ও সেলেনিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। এছাড়া ভিটামিন বি২, বি৩, বি৬ ও বি১২ শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব উপাদান পেশি গঠন, হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষা, ত্বক ও চুলের সুস্থতা বজায় রাখা এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা তার ওজন ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে ৫০ কেজি ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ৫০ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। তবে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে গর্ভাবস্থা, স্তন্যদানকাল বা বিশেষ শারীরিক অবস্থায় প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা বাড়তে পারে।

তবে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রোটিনের উৎস হিসেবে শুধুমাত্র গরুর মাংসের ওপর নির্ভর না করে মাছ, ডিম, দুধ, ডাল ও অন্যান্য খাদ্য থেকেও প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত।

তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে প্রায় ২৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে সপ্তাহে দুই দিন সীমিত পরিমাণে গরুর মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতি বেলায় ২ থেকে ৩ টুকরার বেশি মাংস না খাওয়াই উত্তম বলে মনে করেন তারা।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ কিংবা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গরুর মাংস গ্রহণ করা উচিত। কারণ এসব রোগীর জন্য খাদ্যতালিকায় বিশেষ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে।

গরুর মাংস নিয়ে সবচেয়ে বড় যে উদ্বেগ রয়েছে, তা হলো কোলেস্টেরল। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, গরুর মাংসকে একমাত্র উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার হিসেবে বিবেচনা করা সঠিক নয়। তারা জানান, একটি ডিমের কুসুমে যে পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে, তা প্রায় ২১০ গ্রাম চর্বিহীন গরুর মাংসের সমপরিমাণ।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মাংসের কোন অংশ খাওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেটিও স্বাস্থ্যঝুঁকির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তুলনামূলক কম চর্বিযুক্ত অংশ নির্বাচন করা, রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি অপসারণ করা এবং অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করা স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস।

রান্নার ক্ষেত্রে গ্রিল, শিক কাবাব বা কম তেলে ঝোল জাতীয় পদ্ধতি বেশি উপযোগী বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। লেবুর রস, ভিনেগার বা টক দই ব্যবহার করলে মাংসের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

এছাড়া গরুর মাংসের সঙ্গে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি কিংবা পেঁপের মতো সবজি যুক্ত করলে খাবারটি আরও পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরুর মাংস গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, স্ট্রোক এবং কিডনি জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিছু গবেষণায় অতিরিক্ত লাল মাংস গ্রহণের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

তাই গরুর মাংস সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী বলে মত দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

Link copied!