বৃহস্পতিবার ০৭, মে ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০৭, মে ২০২৬ -- : -- --

বিলাইছড়িতে অসুস্থ নানা-নানি ও প্রতিবন্ধী নাতির মানবেতর জীবন

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬ মে ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম

বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি নড়বড়ে ঘরটি ঝড়-বৃষ্টিতে নিরাপত্তাহীন জীবন

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের প্রতিবন্ধী নাতির মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার গাছকাটাছড়ি গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৯ বছর বয়সী মো. রাহিদুল ইসলাম জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী।

জন্মের পরপরই মাকে হারায় রাহিদুল। অন্যদিকে, তার পিতা মো. নুরুল কবির পলাতক থাকায় শিশুটি পিতৃস্নেহ থেকেও বঞ্চিত। বর্তমানে সে তার ৯০ বছর বয়সী নানা মো. তোবারক মোল্লা ও ৮০ বছর বয়সী নানি মোছা. জাহানারা বেগমের কাছে লালিত-পালিত হচ্ছে।

পরিবারটির বসবাসের একমাত্র ঘরটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি নড়বড়ে ঘরটি ঝড়-বৃষ্টিতে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—পরিবারের তিন সদস্যই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের জন্য হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ। জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে নানার ওষুধের জন্য প্রায় ৪,৫০০ টাকা, নানির জন্য ১,৫০০ টাকা এবং রাহিদুলের চিকিৎসার জন্য আরও প্রায় ১,০০০ টাকা প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, সপ্তাহে প্রায় ৭,০০০ টাকা শুধু ওষুধের পেছনেই ব্যয় হচ্ছে, যা তাদের পক্ষে জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।

বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত এই দম্পতি চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও নাতিকে আগলে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে নিজেদের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোই যেখানে কষ্টকর, সেখানে শিশুটির চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের প্রতি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সামান্য সহযোগিতাই পারে এই অসহায় পরিবারের কষ্ট লাঘব করতে এবং শিশু রাহিদুলের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে।

Link copied!