প্রকাশিত: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদল নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শিক্ষার্থীরা একটি উন্নত ও কার্যকর ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছিল। তবে তাদের অভিযোগ, পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠনে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান উপাচার্য ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ক্যাম্পাসে উন্নয়নের পরিবর্তে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পক্ষপাতমূলক নিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ ও গ্রেফতারসহ ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে—২০০৯ সাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সব নিয়োগের তদন্ত প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ, উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব জনসম্মুখে আনা, গত ১৮ মাসে নিয়োগপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ, অভিযুক্ত প্রশাসনের পদত্যাগ, প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণ, আবাসিক হল ও ক্যাফেটেরিয়ার মানোন্নয়ন এবং স্বল্প অপরাধে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার না করার নীতি গ্রহণ।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, "শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অকার্যকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সিন্ডিকেট সভা ও নিয়োগ বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
