শুক্রবার ০১, মে ২০২৬

শুক্রবার ০১, মে ২০২৬ -- : -- --

মে দিবসে বাকৃবির শ্রমজীবী মানুষের চিন্তা-ভাবনা

বাকৃবি থেকে মুহাম্মদ সোহান

প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

বাকৃবি শ্রমিকদের জীবন

আজ পহেলা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের প্রতীকী দিন হিসেবে পালিত হলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর অনেক কর্মচারীর জীবনে দিনটি অন্যসব দিনের মতোই রয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং কর্মী, বাবুর্চি, নিরাপত্তারক্ষী ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা পর্যাপ্ত ছুটি, ন্যায্য মজুরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েও নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ডাইনিং কর্মী মমতাজ বলেন, “আমরা ডাইনিংয়ে কাজ করি, ছাত্রদের খাওয়া-দাওয়া রান্নাবান্না করি। সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত কাজ থাকে। এরপরও ছাত্ররা রান্না করলে সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হয়। ডাইনিংয়ে কোনো রেস্ট নেওয়ার সুযোগ নেই, সবসময় কাজ।” তিনি আরও বলেন, “দিবস প্রতি বছর আসে, কিন্তু আমাদের তো আসলে কোনো ছুটি নাই।”

ডাইনিং কর্মীদের অভিযোগ, মাসে ৩০ দিন কাজ করলেও তারা বেতন পান মাত্র ২২ দিনের। অতিরিক্ত সময় কাজ করলেও তার কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না।

একই হলের সহকারী বাবুর্চি মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাই না। মাসে ৩০ দিন কাজ করি, কিন্তু ২২ দিনের বেতন পাই। ২৪ ঘণ্টার কাজ, সাপ্তাহিক ছুটিও নাই।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী জানান, হাজিরা বাড়লেও বেতন হিসাবের অসামঞ্জস্য রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এসব দিবস বুঝি না, যেটা আমার পাওয়ার কথা সেটা পেলেই খুশি।”

অন্যদিকে নিরাপত্তারক্ষীদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে কোনো চুরি বা ক্ষতির ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার অনেক সময় তাদের ওপর চাপানো হয়। প্রশাসনিক ভবনে কর্মরত নিরাপত্তারক্ষী মোহাম্মদ মনিরুল হক বলেন, “অনেক সময় বেতন থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়।”

তবে সবকিছুর মধ্যেও কিছু ইতিবাচক অনুভূতির কথাও জানিয়েছেন মাঠকর্মীরা। হর্টিকালচার ফিল্ডের কর্মী রিপন বলেন, “স্যাররা দেশের জন্য কাজ করেন, অনেক কিছু আবিষ্কার করেন। আমরাও এটার অংশ, এটা ভেবেই ভালো লাগে।”

মে দিবসে বাকৃবির এসব কর্মচারীর একটাই প্রত্যাশা—ন্যায্য মজুরি, সাপ্তাহিক ছুটি, উৎসবের ছুটি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা। শ্রমিক দিবসের চেতনা যেন তাদের জীবনেও বাস্তব হয়ে ওঠে, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন তারা।

Link copied!