প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দিঘা বিল সংযোগ খালটি দখল ও ভরাট হয়ে বিলুপ্তির পথে। ফলে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিজমি, পানের বরজ ও মৎস্য খামার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে। দ্রুত খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাটিয়া ইউনিয়নের হাড়িশ্বর গ্রামের একটি মাঠ থেকে উৎপত্তি হয়ে খালটি প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে টাংগনগাতি গ্রামের দিঘা বিলে গিয়ে মিলিত হতো। পথে এটি হারুয়া, দরগাপাড়া-তুলিয়াটি ও মালিয়াটি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একসময় ২৪ থেকে ২৫ ফুট প্রশস্ত এই খালে নৌকা চলাচল করত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হতো।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, অবৈধ দখল ও মাটি ভরাটের কারণে এর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে খালের সংযোগস্থলে পুকুর খনন করে পাড় উঁচু করায় দিঘা বিলের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে।
এ অবস্থায় শতাধিক একর ফসলি জমি পানিবন্দী হয়ে পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে পানের বরজ, ভেঙে যাচ্ছে পুকুরের পাড় এবং মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন মৎস্যচাষিরা। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অনেক জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
টাংগনগাতি, হারুয়া, দরগাপাড়া-তুলিয়াটি ও মালিয়াটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছরই বর্ষায় তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখনন না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে খালের সংযোগস্থলে পুকুর খননের অভিযোগ অস্বীকার না করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের একজন জানান, খালটি আগেই ভরাট ছিল। সরকারি উদ্যোগে খনন কাজ শুরু হলে তারা পুকুরের পাড় সরিয়ে নিতে প্রস্তুত।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে স্থানীয় পর্যবেক্ষক মো. সোলেমান মিয়া বলেন, নদ-নদী ও খাল প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। এগুলো ভরাট হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা তীব্র হয়, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাই এসব জলাধার সংরক্ষণ ও পুনঃখনন জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নদ-নদী ও খাল কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এগুলো রক্ষা না করলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অনিবার্য হয়ে উঠবে।
