প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের তীব্র সংকট শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৩৪ হাজারেরও বেশি প্রধান শিক্ষক পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ফলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদানের মান উভয়ই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, মোট ৬৫ হাজার ৪৫৭টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৫৯টি পদ খালি। এই বিপুল সংখ্যক শূন্যতা পূরণের জন্য বিধিমালা সংশোধন করা হলেও আইনি জটিলতার কারণে পদোন্নতির প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের কথা। তবে একটি চলমান মামলার কারণে পদোন্নতির বড় অংশ আটকে আছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য সহকারী শিক্ষকেরা পদোন্নতি পাচ্ছেন না।
এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন,
‘বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদের একটি বড় অংশ খালি রয়েছে। আমাদের নীতি অনুযায়ী, এই পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আমাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছে।’
তিনি আরও বলেন,
‘মূলত একটি আইনি জটিলতা বা আদালতের মামলার কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়াটি কিছুটা থমকে আছে। আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই আদালতের মামলার নিষ্পত্তি হবে। মামলার জট খুললেই আমরা বড় আকারে পদোন্নতি দিতে পারব। এই সংকট সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দ্রুতই এর সমাধান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
এদিকে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি ধীর। বর্তমানে ১ হাজার ১২২টি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও এর বিপরীতে প্রায় সাত লাখ প্রার্থী আবেদন করেছেন। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলেও এখনো পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
পিএসসি জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর জন্য পরীক্ষা আয়োজন একটি বড় প্রশাসনিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ। তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা, মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং চাকরি স্থায়ীকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এসব শর্ত পূরণ করেও অনেক শিক্ষক পদোন্নতি পাচ্ছেন না।
বর্তমানে অনেক বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং কার্যকর নেতৃত্বের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে হলে দ্রুত এই সংকট নিরসন জরুরি। বিশেষ করে পদোন্নতির প্রক্রিয়া সচল না হলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
