মঙ্গলবার ০৭, এপ্রিল ২০২৬

মঙ্গলবার ০৭, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

বেরোবিতে বইয়ের পাতা ছাড়িয়ে ইতিহাসের জীবন্ত উপস্থাপনা

তারেক পাশার সৌরভ,বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

ফাইল ফটো

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আয়োজিত প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন দর্শনার্থীদের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বর ও কবি হেয়াত মামুদ ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে একদিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।

প্রদর্শনীতে দেশের ও উপমহাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার প্রতিরূপ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সোমপুর বিহার, শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, গৌড় নগরী, রামকেলি মন্দির, ষাট গম্বুজ মসজিদ, কুসুম্বা মসজিদ, কান্তজি মন্দির, লালকেল্লা, খলিফাবাদ নগরীসহ মুগল আমলের বিভিন্ন দুর্গ ও প্রতিরক্ষা কাঠামো।

এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আঞ্চলিক খাবারের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আশমীরা আলম প্রান্ত বলেন, “আমরা প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থী হিসেবে চাই শুধু আমরা নয়, সবাই যেন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ সম্পর্কে সচেতন হয় এবং এগুলো সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।”

প্রদর্শনী পরিদর্শনে এসে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ হারুন-অর-রশিদ বলেন, “প্রদর্শনীতে এসে আমি সত্যিই অভিভূত। আমরা সাধারণত বই বা পত্রিকায় এসব ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে জানি, কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে যেন সেই সময়ে ফিরে গেছি। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এ ধরনের আয়োজন জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।”

ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বলেন, “শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। এখানে প্রত্ননিদর্শনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পোশাক উপস্থাপনের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।”

Link copied!