প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবের মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এপ্রিল মাসজুড়ে বিদ্যমান দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে, যা ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে এসেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত) আওতায় ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় বিক্রি অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সুপারিশ এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত এই দাম পুরো এপ্রিল মাসে কার্যকর থাকবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রায় এক মাস ধরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সম্প্রতি ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জ্বালানির দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মুহূর্তে দাম না বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।
উল্লেখ্য, দেশে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়। সে অনুযায়ী এপ্রিল মাসের জন্য নতুন দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। সব মিলিয়ে মোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।
যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সামনে হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুত পরিস্থিতিও বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’ এ প্রেক্ষিতে সারাদেশে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারি হিসাবে, একদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা দায়ের এবং ৯ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে—সাতক্ষীরায় একজনকে দুই বছর, চাঁদপুরে একজনকে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে একজনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
