প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বরফ গলা বা ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা দেখাচ্ছে, বিপদ শুধু সমুদ্রের পানি বাড়া নয়—অনেক বড় শহরের নিচের জমিই দ্রুত দেবে যাচ্ছে। এই নীরব ভূমিধস ভবিষ্যতে কোটি মানুষের জীবন, বসতি ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Nature-এ প্রকাশিত গবেষণায় প্রথমবারের মতো বিশ্বের ৪০টি প্রধান নদীবদ্বীপের বিস্তারিত মানচিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, একাধিক অঞ্চলে ভূমি অবনমনের হার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও বেশি। গবেষকেরা বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন গঙ্গা বদ্বীপ অঞ্চলের শহরগুলো নিয়ে, যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা ও কলকাতা।
পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১ শতাংশ জায়গাজুড়ে নদীবদ্বীপ বিস্তৃত হলেও এখানে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ বাস করেন। বিশ্বের বড় ৩৪টি শহরের ১০টিই এসব নিচু এলাকায় অবস্থিত। উদাহরণ হিসেবে নীলনদের তীরের আলেকজান্দ্রিয়া, ইয়াংজি নদীর তীরের সাংহাই এবং মেকং বদ্বীপের হো চি মিন সিটি-র নাম উল্লেখযোগ্য। অধিকাংশ বদ্বীপই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১–২ মিটার উঁচু হওয়ায় সামান্য ভূমি অবনমনও বড় ধরনের বন্যা ও লবণাক্ততার ঝুঁকি তৈরি করে।
গবেষণায় European Space Agency-এর Sentinel-1 স্যাটেলাইটের এক দশকের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি বদ্বীপ বছরে ৩ মিলিমিটারেরও বেশি হারে নিচে নামছে। থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায়া, ভিয়েতনামের মেকং ও চীনের ইয়েলো নদী বদ্বীপে এখন ভূমি ধসই প্রধান উদ্বেগ।
ভূমি দেবে যাওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক কারণ থাকলেও মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, তেল-গ্যাস আহরণ এবং ভারী স্থাপনা নির্মাণের চাপ মাটির স্তর সংকুচিত করছে। দ্রুত নগরায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধিও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পাশাপাশি এখন জরুরি হয়ে পড়েছে ভূমি স্থিতিশীল রাখার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। শুধু সমুদ্রের পানি ঠেকালেই চলবে না—পায়ের নিচের মাটিকেও বাঁচাতে হবে।
