প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
আজকের অশান্ত জীবনে মানুষের মানসিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। ছোটখাটো কাজের মাঝেও মন যেন অন্য কোথাও বিচ্ছিন্ন থাকে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কাজের গতি কমে যায়, আর মানসিক ক্লান্তি বেড়ে যায়। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো জিকির—আল্লাহর স্মরণ।
ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেছেন, “তুমি যদি তোমার নফসকে হক বা নেক কাজে ব্যস্ত না রাখো, তবে তা তোমাকে বাতিল ও গুনাহের কাজে ব্যস্ত করে দেবে।” এটি আমাদের স্মরণ করায়, শয়তানের প্ররোচনা থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আল্লাহর স্মরণ।
জিকির শুধুমাত্র শব্দ উচ্চারণ নয়, এটি আত্মার পরিশুদ্ধি এবং মানসিক শান্তির এক অমুল্য প্রক্রিয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “জেনে রেখো, আল্লাহর জিকির দ্বারা অন্তরসমূহ শান্তি লাভ করে।” (সুরা রা‘দ, আয়াত ২৮)। এছাড়া, আল্লাহ আমাদের স্মরণ করলে তিনি আমাদের স্মরণ করবেন। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৫২)
শয়তান যখন মানুষের অন্তর জিকিরশূন্য পায়, তখন সে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু নিয়মিত জিকির মানুষকে গিবত, পরনিন্দা ও অনর্থক কাজ থেকে দূরে রাখে। নবী করিম (সা.) জিকিরকে এমন একটি কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা স্বর্ণ-রূপা দান বা যুদ্ধের চেয়ে উত্তম।
প্রয়োগিকভাবে, জিকিরের জন্য আলাদা সময় না পেলেও দৈনন্দিন কাজের মধ্যে সহজে এটি করা যায়। অফিসে যাত্রাপথে, রান্না বা ঘর পরিষ্কার করার সময়, ট্রাফিক জ্যামে বসে, কিংবা ঘুমানোর আগে—সব জায়গায় মনোযোগ দিয়ে আল্লাহর স্মরণ করা যায়।
কিছু সহজ জিকিরের উদাহরণ:
সুবহানাল্লাহ — আল্লাহ অতি পবিত্র।
আলহামদুলিল্লাহ — সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ — আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
আস্তাগফিরুল্লাহ — ক্ষমা প্রার্থনা।
সুবহানাল্লাহিল ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম — জান্নাতে গাছ রোপণের প্রতীক।
শেষকথা, হতাশা হলো শয়তানের প্রধান অস্ত্র। জিকিরের মাধ্যমে মনকে প্রশান্ত রাখাই শুধু দুনিয়ার চাপ হ্রাস করে না, বরং আখিরাতের জন্যও মূল্যবান সঞ্চয় তৈরি করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সবসময় তাঁর স্মরণে মগ্ন থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
